৮ দফা দাবিতে আমরণ অনশনে হাসনাত আব্দুল্লাহ

শিক্ষা স্লাইড

সেপ্টেম্বর ২১, ২০২২ ২:৫৬ অপরাহ্ণ

মতিউর রহমান সরকার দুখু, (প্রতিনিধি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের বিদ্যমান সমস্যা নিরসনে ৮ দফা দাবিতে আমরণ অনশন পালন করছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্সে অধ্যয়নরত ইংরেজি বিভাগের একজন শিক্ষার্থী।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে গেলে প্রতিনিয়ত শিক্ষার্থীদের যে কথাটি শুনতে হয় তা হলো: “লাঞ্চের পরে আসুন” । এছাড়া শিক্ষার্থীদের সাথে অশোভন আচরণসহ নানা ধরনের হয়রানির ঘটনা প্রতিদিনই ঘটে থাকে। এ ব্যাপারে সাধারণ শিক্ষার্থীরা অনেক সময় প্রতিবাদ করলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রসাশনের কোনো কর্ণপাত নেই। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এসব সমস্যার নিরসনে একাই তিনদিন ধরে প্রশাসনিক ভবনের গেইটের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। গতকাল ২০ সেপ্টেম্বর উপাচার্যের পক্ষ থেকে কোনো সমাধানের আশ্বাস না পাওয়ায় তিনি আমরণ অনশন শুরু করেন। ইতিমধ্যে তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তিনি কথা বলতে পারছেন না।

হাসনাত আব্দুল্লাহর ৮ দফা দাবিগুলো হচ্ছে :

০১. শিক্ষার্থীদের হয়রানি নিরসনের জন্য ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কাজের জবাবদিহিতা নিশ্চিতকল্পে শিক্ষক ও ছাত্র প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে অভিযোগ সেল গঠন করতে হবে।যেখানে সেবাগ্রহীতারা সুনির্দিষ্ট প্রমাণাদির ভিত্তিতে অভিযোগ জানাতে পারেন।

০২. প্রশাসনিক সকল কার্যক্রম অনতিবিলম্বে ডিজিটাইজড করতে হবে।

০৩. নিরাপত্তা ও হারিয়ে যাওয়া কাগজপত্র তদন্তের স্বার্থে অফিস সমূহের অভ্যন্তরে প্রতিটি রুমে পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে।

০৪. প্রশাসনিক ভবনে অফিস সমূহের প্রবেশদ্বারে ডিজিটাল ডিসপ্লে স্থাপন করতে হবে। ডিসপ্লেতে অফিস সমূহের নাম,কক্ষ নম্বর ও সেখানে প্রদত্ত সেবার বিবরণী, কর্তব্যরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নাম ও ছবি সহ প্রয়োজনীয় তথ্যাবলি প্রদর্শন করতে হবে।

০৫. কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য স্বাস্থ্যকর ও সুন্দর কর্ম পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। প্রশাসনিক ভবনের ক্যান্টিনেরও সংস্কার করতে হবে।

০৬. কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আধুনিক সাচিবিক-বিদ্যা, পেশাদারিত্ব, মানুষিক ও আচরণগত প্রশিক্ষণ আইন করে বাধ্যতমূলক করতে হবে।প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত মানসিক সেবা প্রদানকারী বিভাগ ও সেন্টারসমূহের শরণাপন্ন হতে হবে।

০৭. অফিস চলাকালীন প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ব্যক্তিগত, ব্যবসায়িক কিংবা রাজনৈতিক কোনো কাজেই লিপ্ত থাকতে পারবে না। সে নিরিখে প্রশাসনিক ভবনের অভ্যন্তরে অবস্থিত কর্মচারী ইউনিয়ন অফিস বাধ্যতামূলকভাবে তাদের ক্লাবসমূহে স্থানান্তর নিশ্চিত করতে হবে।

০৮. কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্বাচনকালীন প্রচারণা পরিবেশবান্ধব করতে হবে।বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা পরিবেশ বজায় রাখতে, বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য হানিকর ও পরিবেশ বিপর্যয়কারী অপ্রয়োজনীয় পোস্টার লিফলেট ও ব্যানার ব্যবহার আইন করে নিষিদ্ধ করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.