স্ত্রীর প্রেমিক ১০ বছর ছিলেন একই বাড়িতে, জানতেন না স্বামী!

স্ত্রীর প্রেমিক ১০ বছর ছিলেন একই বাড়িতে, জানতেন না স্বামী!

মজার খবর স্পেশাল

মে ২২, ২০২১

বিয়ের পরেও প্রেমিকার সাথে সম্পর্কে রাখার ঘটনা এখন হরহামেশায় শোনা যায়। খবরের পাতায় এ রকম ঘটনা প্রায়ই উঠে আসে। কিন্তু একই বাড়িতে স্বামীকে লুকিয়ে প্রেমিকার সাথে থাকার ঘটনা অনেকটা অন্যরকম। এক নারী ১০ বছর স্বামী ও প্রেমিককে নিয়ে এক ঘরে থেকেছেন কিন্তু স্বামী কখনো এ ব্যাপারে জানতে পারেনি।

শুক্রবার (২১ মে) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ওই নারীর নাম ওয়ালবুর্গা ওয়েসটেরেইচ। কিন্তু তার ডাক নাম ছিল ডাকনাম ডলি। তিনি ছিলেন একজন জার্মান নাগরিক। বিয়ে করেছিলেনও আমেরিকার একজন ধনী কাপড় ব্যবসায়ীকে। তার নাম ছিল উইলিয়াম।

ডলি, তার স্বামী উইলিয়াম এবং তার প্রেমিক ওট্টো। এই ত্রিকোণ প্রেম ঘিরে এক অদ্ভুত ঘটনা সামনে এসেছিল এক সময়। সেটি হল স্বামী এবং প্রেমিক ওট্টোর সঙ্গে ১০ বছর একই ঘরে থাকতেন ডলি। তবে মজার বিষয় ছিল ১০ বছরের একটি দিনও তার স্বামী সে সত্য জানতে পারেননি।

কারণ, ঘরের মধ্যে ওট্টোকে এমন একটি জায়গায় লুকিয়ে রেখেছিলেন ডলি যেখান থেকে কোনো তৃতীয় ব্যক্তির উপস্থিতির টের পাওয়া যায়নি। ওই বাড়ির চিলেকোঠায় ১০ বছর লুকিয়ে ছিল ওট্টো। স্বামী উইলিয়াম কাজের জন্য বাইরে বেরিয়ে গেলেই ডলির কাছে নেমে আসতেন তিনি। আবার উইলিয়াম আসলেই নিজের জায়গায় চলে আসতেন।

ডলি ১২ বছর বয়সে উইলিয়ামের কাপড়ের কারখানায় চাকরি শুরু করেন। কারণ তার পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভাল ছিল না। ডলি দেখতে সুন্দরী এবং বুদ্ধিমতী হওয়ায় তার প্রতি খুব সহজেই কারখানার পুরুষ কর্মীরা আকৃষ্ট হতেন। উইলিয়ামও তার ব্যতিক্রম ছিলেন না।

ডলির প্রতি মুগ্ধ হয়ে উইলিয়াম ১৭ বছর বয়সে তাকে বিয়ে করেন। এরপর ১৯১৩ সালে ডলির বয়স যখন ৩৩ বছর, তখন স্বামী উইলিয়ামই তার সাথে ১৭ বছরের ওট্টো সানহুবারের পরিচয় করিয়ে দেন। ওট্টো ছিলেন উইলিয়ামেরই কারখানার এক কর্মচারী। তিনি জামাকাপড় সেলাই করতেন। একবার ডলির সেলাই মেশিন খারাপ হয়ে গিয়েছিল। তখনই ওট্টোকে বাড়িতে পাঠিয়েছিলেন উইলিয়াম।

প্রথম পরিচয়েই একে অপরের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়েছিলেন তারা। এরপর মাঝে মধ্যেই সেলাইয়ের অজুহাতে ওট্টোকে বাড়িতে ডেকে পাঠাতে শুরু করলেন ডলি। উইলিয়াম বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলেই ডলির কাছে আসতে শুরু করেন ওট্টো।

ওট্টোকে প্রতিবেশীদের কাছে তিনি নিজের দূর সম্পর্কের ভাই বলে পরিচয় দেন। এরপরেও বিষয়টি প্রতিবেশীরা ভাল ভাবে নিচ্ছিলেন না। তাই ওট্টোকে বাড়িতে লুকিয়ে রাখাই সঠিক মনে করেন ডলি। আর ওট্টো ডলির প্রেমে এতটাই পাগল হয়ে পড়েছিল যে কারখানার কাজ ছেড়ে তিনি প্রেমিকার বাড়িতে পাকাপাকি ভাবে থাকতে চলে আসেন। বাড়ির ছোট্ট চিলেকোঠায় থাকতে শুরু করেন তিনি।

সারারাত চিলেকোঠায় থাকত ওট্টো আর উইলিয়াম বেরিয়ে গেলেই নীচে নেমে আসত। এরকমভাবে চলছিল তার জীবন। তবে পুরো ঘটনা অজানা ছিল উইলিয়ামের কাছে। ১৯১৮ সালে একবার স্ত্রী ডলিকে নিয়ে লস অ্যাঞ্জেলস চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন তিনি।

এরপর অনেকটা সমস্যায় পড়ে যান ওট্টো এবং ডলি। কিন্তু বুদ্ধিমতী ডলিও থেমেছিল না ঠিকই একটি উপায় বের করেছিল। লস অ্যাঞ্জেলসে এমন একটা বাসা তারা পছন্দ করেন যে সেখানেও একটা চিলেকোঠা ছিল। ডলি এবং উইলিয়াম নতুন বাড়িতে চলে যাওয়ার কিছু দিন পর ওট্টোও সেখানে গিয়ে আগের মতোই থাকতে শুরু করেন।

এভাবে ১০ বছর কেটে যায় তাদের। এ সময়ের ভেতরে ওট্টোর উপস্থিতি একটুও টের পাননি উইলিয়াম। এক রাতে স্ত্রী ডলির সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি শুনে পিস্তল হাতে নীচে নেমে আসেন ওট্টো। এসেই উইলিয়ামকে গুলি করে খুন করেন তিনি। আর পুলিশের কাছে ঘটনাটিকে ডাকাতি ঘটনা বলে চালিয়ে দেন ডলি।

এই ঘটনার পরেও ওই বাড়িতে দুজনে আগের মতোই একসঙ্গে থাকতেন। কিন্তু কয়েকবছর পর ডলির জীবনে আসে নতুন আরেকটি পুরুষ। একজন আইনজীবীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন তিনি। স্বামীর মৃত্যুর পর ওই আইনজীবীই তার হয়ে মামলা লড়েছিলেন।

আইনজীবীর সঙ্গে সম্পর্কে থাকাকালীন রয় ক্লাম্ব নামে আরও এক প্রেমিক হয় ডলির। স্বামীকে খুন করা ওই পিস্তল রয়কে লুকিয়ে রাখতে বলেছিলেন তিনি। কারণ হিসেবে বলেছিলেন, ওই পিস্তলটি নাকি খুনে ব্যবহার করা পিস্তলের মতোই দেখতে। এ পিস্তল দেখলে পুলিশ তাকে তাই অহেতুক সন্দেহ করতে পারে।

পরবর্তীতে রয়ের সঙ্গে পরিচয় হয় ওই আইনজীবীর, রয়ের কাছ থেকে সবকিছু শুনে তিনি এবং ডলির কথাবার্তার মধ্যে অসঙ্গতি পেয়ে পুলিশের কাছে যান তিনি। পরে রয়ের কাছ থেকে পুলিশ পিস্তল উদ্ধার করে। স্বামীকে খুনের অভিযোগে ডলি গ্রেফতার হন। জেলবন্দি ডলি আইনজীবী প্রেমিকের কাছে সে সময় বাড়ির চিলেকোঠায় থাকা কথিত ‘ভাই’ ওট্টোর দেখভালের অনুরোধ করেন।

পরে চিলেকোঠায় ওট্টোর সঙ্গে পরিচয় হওয়ার পর আইনজীবী পুরো ঘটনাটি জানতে পারেন। ওট্টো আসলে তার প্রেমিক এবং কী ভাবে তারা দুজন মিলে উইলিয়ামকে খুন করেছিলেন। ওট্টো এবং ডলি দুজনের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণও হওয়ায় জেল খাটেন তারা।

পরবর্তীতে জেল থেকে ছাড়া পেয়ে ওট্টো নিজের নাম বদলে কানাডায় চলে যান। সেখানে অন্য এক নারীকে বিয়ে করেন তিনি। অন্যদিকে, ডলি লস অ্যাঞ্জেলসেই থাকতেন। ১৯৬১ সালে ৮০ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের নিয়ে একাধিক ছবি হয়েছে। ‘দ্য ব্লিস অব মিসেস ব্লসম’, ‘দ্য ম্যান ইন দ্য অ্যাটিক’। ২০১৭ সালে ইনভেস্টিগেশন ডিসকভারির ‘এ ক্রাইম টু রিমেম্বার’ সিরিজে ডলি এবং ওট্টোর কাহিনী সম্প্রচারিত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *