হাসপাতালে পিপিই পরে করোনা রোগীকে বিয়ে! (ভিডিও)

হাসপাতালে পিপিই পরে করোনা রোগীকে বিয়ে! (ভিডিও)

মজার খবর স্পেশাল

ভারতের কেরালা রাজ্যের আলাপ্পুজা জেলার বন্দানাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত রোববার (২৫ এপ্রিল) ঘটেছে এক অন্যরকম ঘটনা। হাসপাতালেই বিয়ের আনুষ্ঠিকতা সম্পন্ন করেন করোনা আক্রান্ত এক রোগী।

ঘটনাটি তাহলে খুলেই বলা যাক। বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক হয়ে যাওয়ার পর শুভক্ষণের মাত্র কদিন আগে করোনায় আক্রান্ত হন পাত্র সরথ মোন ও তার মা। রোববার (২৫ এপ্রিল) বন্দানাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মা ও ছেলে ভর্তি হন সংক্রমণ নিয়ে।

হবু বর কোভিড আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। তবুও বাধা হয়নি করোনা মহামারি কিংবা স্বাস্থ্যবিধির বিধান। এদিকে বিয়ের বিষয়ে অনড় থাকে দুই পরিবার। তারা সিদ্ধান্ত নেন যে, বিয়েটা হবেই। মুহূর্তেই কেরালা রাজ্যের আলাপ্পুজা জেলার বন্দানাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কোভিড ইউনিটে কোভিড ওয়ার্ডকেই বিয়ের আসর করে ফেলে ওই দুই পরিবার। বিয়ে করেন রীতিমতো পিপিই কিট পরে।

গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, গত ১ বছর ধরে পিছিয়েই যাচ্ছিল বিয়েটা। বহু আগে দিনক্ষণ ধার্য করলেও করোনা মহামারির কারণে তা বার বার পিছিয়ে যাচ্ছিল। তাই আর দেরি না করে ব্যতিক্রমভাবেই বিয়ের কার্যক্রম সেরে ফেললেন এ দম্পতি।

অবশ্য তারা হাসপতালের ওই বিয়ের জন্য অনুমতি নিয়েছিল স্থানীয় প্রশাসন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। হাসপাতালে পাত্রী অভিরামী বিয়ে করতে হাজির হন পিপিই কিট পরে। আর মালাবদলের সাক্ষী থাকেন সেখানকার চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য কর্মচারীরা। আর সেই বিয়ের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করতেই তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়।

চারদিক যখন উদ্বেগ উৎকণ্ঠা ঠিক তখনই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উঠে এলো এমন এক দৃশ্য যা দেখে রীতিমতো হইচই পড়ে গেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। সম্প্রতি ভারতের কেরালা থেকে এমনই একটি ছবি উঠে এসেছে। এ বিয়েটা নিয়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা সমালোচনা। তাদের এমন বিয়েকে সমর্থন জানিয়ে পোস্ট দিয়েছেন নেটিজেনরা। আবার অনেকে দেখিয়েছে বিরূপ প্রতিক্রিয়া।

করোনার আবহে যখন মানুষের বেঁচে থাকাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে, যখন বিয়ে পিছিয়ে যাচ্ছে সবার, তখন এই কাণ্ড ঘটানো উচিত হয়নি বলেও মন্তব্য করেন অনেকে।

এছাড়া বিয়ের জন্য কিছুদিন অপেক্ষা করা উচিত ছিল বলেও মন্তব্য করেছেন কেউ কেউ।

করোনার ক্রমবর্ধমান সংক্রমণ ও মৃত্যু ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে প্রতিবেশী দেশ ভারতে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে আরও তিন লাখ ৫৪ হাজার ৫৩১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে এবং মারা গেছেন সর্বোচ্চ দুই হাজার ৮০৬ জন।

কোথাও বেডের সংকট তো আবার হাহাকার অক্সিজেনের জন্য। দ্বিতীয় ঢেউয়ে ভেঙে গেছে দেশটির স্বাস্থ্য ব্যবস্থা। হয়ে পড়েছে যেন এক মৃত্যুপুরী।

ভিডিও:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *