স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে বিএনপির ‘বড় প্রতারণা’

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে বিএনপির ‘বড় প্রতারণা’

রাজনীতি স্লাইড

‘এক সাগর রক্তের বিনিময়ে, বাংলার স্বাধীনতা আনলে যারা আমরা তোমাদের ভুলবনা। দুঃসহ বেদনার কণ্টক পথ বেয়ে শোষণের নাগপাশ ছিঁড়লে যারা আমরা তোমাদের ভুলব না।’ কিন্তু করোনার অজুহাত দেখিয়ে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে বাংলার স্বাধীনতা আনয়নকারীদের ভুলে গেল বিএনপি। এতে দলের তৃণমূল ও জনগণের সঙ্গে বিএনপি ‘বড় ধরনের প্রতারণা’ করেছে বলে মন্তব্য করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সূত্রের তথ্যানুযায়ী, করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার অজুহাতে হঠাৎ করেই ২৪ মার্চ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর দলীয় সব কর্মসূচি স্থগিত করে বিএনপি। এদিন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, ৩০ মার্চ পর্যন্ত বিএনপির সব ধরনের কর্মসূচি বন্ধ থাকবে। কিন্তু ৩০ তারিখ পার হলেও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন বিষয়ে কোনো কার্যক্রম চোখে পড়েনি। সীমিত আকারেও হয়নি কোনো আয়োজন।

জানা গেছে, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে গত ২২ নভেম্বর এক বছরের কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি। বিএনপির স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন কমিটির আহবায়ক এবং দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন সংবাদ সম্মেলন করে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। কিন্তু কর্মসূচি ঘোষণার সময়ই প্রশ্ন উঠেছিল, স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটবদ্ধ থেকে কীভাবে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর মতো মহান একটি বিষয় উদযাপন করবে বিএনপি? যে দল দেশের স্বাধীনতাই চায়নি, দেশের জনগণের ওপর হানাদার পাক বাহিনীকে লেলিয়ে দিয়েছিল তাদের সঙ্গে থেকে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করার ঘোষণাকে তখনই দেশের মানুষ নাটক বলে উল্লেখ করেছিল।

সূত্র জানায়, মূলত নাশকতা সৃষ্টি করতেই ২৪ মার্চ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠান স্থগিত করে বিএনপি। এ সময় তারা করোনার অজুহাত দেখায়, আদতে হেফাজতে ইসলামসহ সাম্প্রদায়িক-মৌলবাদী শক্তির সঙ্গে গোপনে সহিংসতার পরিকল্পনা করে বিএনপি।

সরাসরি মোদিবিরোধী আন্দোলনের ঘোষণা থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দিয়েছিলেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সরাসরি মোদিবিরোধী আন্দোলনের ঘোষণায় ভারতীয় দূতাবাসে নালিশ জানানোর সুযোগ বন্ধ হয়ে যাবে তার। তাই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বে গোপনে পরিকল্পনা করা হয়, কর্মসূচি ঘোষণা করবে হেফাজতে ইসলাম আর মাঠ পর্যায়ে তা বাস্তবায়ন করবে ছাত্রদল-শিবির ক্যাডাররা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেছেন, জামায়াতের সঙ্গে থাকাই তো প্রমাণ করে বিএনপি স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর উপলক্ষে বিএনপির অনুষ্ঠান ঘোষণা যে লোক দেখানো ছিল তা সবাই জানতো। এছাড়া স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠান সীমিত আকারেও পালন করতে পারতো বিএনপি। কিন্তু দলটি সুবর্ণজয়ন্তীর সব কার্যকম বন্ধ করে তৃণমূল ও দেশের জনগণের সঙ্গে বড় ধরনের প্রতারণা করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *