সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বয়কটের ঘোষণা ইংলিশ ফুটবল দলগুলোর

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বয়কটের ঘোষণা ইংলিশ ফুটবল দলগুলোর

খেলা স্পেশাল

এপ্রিল ২৬, ২০২১ ৭:৪৪ পূর্বাহ্ণ

ফুটবলারদের নিয়ে ব্যঙ্গ এবং ক্রমাগত বিদ্রূপ মন্তব্য করায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে ইংলিশ ফুটবল।

এফএ, প্রিমিয়ার লিগ, ইংলিশ ফুটবল লিগসহ ইংল্যান্ডের সবগুলো সংস্থা সম্মিলিতভাবে এই সিদ্ধান্ত নেয়। যা কার্যকর হবে আগামী শুক্রবার থেকে। ইংলিশ ফুটবলের এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকবে ফেসবুক, টুইটার এবং ইনস্টাগ্রাম।

মুঠোফোন আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে সব কিছুই এখন হাতের পৃষ্ঠতলে। কোন সুসংবাদ এখানে যেমন ছড়ায় বাতাসের গতিতে, আবার তিরষ্কার কিংবা অপ্রপ্রচারও ঘুরে বেড়ায় সমান তালে।

যা নিয়ে চরম অস্বস্তিতে পরেন তারকা ব্যক্তিরা। খেলোয়াড়দের বেলায় বিষয়টা আরও প্রকট। আর তাই এবার হার্ডলাইনে ইংলিশ ফুটবল।

সামাজিক মাধ্যমে ছাড়ানো এসব বিব্রতকর বিষয় নিয়ে বেশ কিছু দিন ধরেই সরব ফুটবলের নীতি নির্ধারকরা। এ জন্য গেল ফেব্রুয়ারিতে ফেসুবকের প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ এবং টুইটার প্রধান জ্যাক ডর্সি বরাবর চিঠিও দিয়েছিলেন তারা। কিন্তু তাতে প্রতিকার মেলেনি খুব একটা। তাই অনেকটা বাধ্য হয়েই বয়কটের সিদ্ধান্ত।

এভারটন কোচ কার্লো অ্যানচেলত্তি বলেন, আমরা ফুটবল খেলি এটা আমাদের সৌভাগ্য। কিন্তু সত্যি বলতে যখন মাঠে খেলতে নামি কিংবা স্টেডিয়ামের বাইরে প্রচুর তিরষ্কার শুনতে হয়। আর এখন এটা ছড়িয়ে পড়েছে সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতেও। যা খুবই দুঃখজনক।

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কোচ ওলেগানার সোলশায়ের বলেন, অবশ্যই বিষয়টি বন্ধে কাজ করা উচিত। যেভাবে আমাদের বৈষম্য করা হচ্ছে সামাজিক মাধ্যমে এটা কি আসলেই বন্ধ করার কোন উপায় নেই! আমাদের একত্রে কাজ করতে হবে, শক্তাবস্থান তৈরি করতে হবে, যাতে করে এসব বন্ধ হয়।

আগামী ৩০ এপ্রিল অর্থাৎ শুক্রবার থেকে চারদিনের জন্য কার্যকর হবে এই বয়কট। যেখানে সম্মতি জানিয়েছে এফএ, প্রিমিয়ার লিগ, ইংলিশ ফুটবল লিগ, উমেন্স সুপার লিগসহ কোচ এবং রেফারিদের সংগঠনগুলো। এছাড়াও ব্রিটেন সরকারের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে একটি শক্তাবস্থান।

লিভারপুল কোচ ইয়র্গেন ক্লপ বলেন, এটা অনেক বড় সমস্যা। এখন সবাই সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করতে পারে। কিন্তু এখানে কোন যাচাই বাছাই নাই। আমি মনে করি এই বিষয়টা কঠোর ভাবে মানা উচিত। তাহলে সমস্যার সমাধান হবে কিছুটা।

চেলসি কোচ থমাচ টাচেল বলেন, পরিষ্কারভাবে বলতে চাই এটার সঙ্গে আমি আছি। ক্লাবগুলো একত্রিত হয়ে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে এটা সময় উপযোগী। আমার বিশ্বাস এর ফলে একটা সমাধান আসবেই।

সামাজিক মাধ্যমে প্রায়ই বর্ণ বৈষম্যের শিকার হন ফুটবলাররা। যে বিষয়গুলো বন্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়ার কথাও ভাবছে ইংলিশ ফুটবল।

Leave a Reply

Your email address will not be published.