শ্রীলঙ্কার বাজারে কোন পণ্যের দাম কত?

শ্রীলঙ্কার বাজারে কোন পণ্যের দাম কত?

আন্তর্জাতিক স্লাইড

জুলাই ১৬, ২০২২ ৮:০৬ পূর্বাহ্ণ

শ্রীলঙ্কায় মূল্যস্ফীতি এতটাই ফুলেফেঁপে উঠেছে যে সেখানকার বাজার দর শুনে দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিটি মানুষের চোখ কপালে। এখন পর্যন্ত চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে শ্রীলঙ্কার জনগণ। কবে দাম কমবে, কবে মানুষ স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবে- সে কথা এখন পর্যন্ত কেউ হলফ করে বলতে পারছে না।

চলতি বছরের জুন মাসের হিসাব অনুযায়ী, দেশটিতে মূল্যস্ফীতির পরিমাণ ছিল ৫৪ দশমিক ৬ শতাংশ- যা দেশটির ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। মে মাসে দেশটিতে মূল্যস্ফীতির পরিমাণ ছিল ৩৯ দশমিক ১ শতাংশ। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে ১৫ দশমিক ১ শতাংশ। সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি ৫৪ দশমিক ৬ শতাংশ হলেও, দেশটিতে ভোগ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ২২০ দশমিক ২০ শতাংশ- যা অকল্পনীয়। খবর ট্রেডিং ইকনমিকস।

সম্প্রতি বার্তাসংস্থা বিবিসি শ্রীলঙ্কার পেত্তাহ বাজারে অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের দামের ওপরে একটি জরিপ চালায়। সেখানে দেখা যায় ২০১৯ সালের নভেম্বরে যে দামে পণ্য বিক্রি হতো, ২০২২ সালের জুলাইয়ে একই পণ্য বিক্রি হচ্ছে আকাশছোঁয়া দামে।

জরিপে দেখা যায়, বর্তমানে শ্রীলঙ্কার বাজারে প্রতিকেজি চাল বিক্রি হচ্ছে ২২০ রুপিতে, যার পূর্বমূল্য ছিল ৯০ রুপি। মাত্র দু’বছরে পণ্যটির দাম বেড়েছে ১৪৪ শতাংশ। বাজারে দেশটির বিখ্যাত সালায়া মাছ বিক্রি হচ্ছে ৭০০ রুপি কেজিদরে, যার পূর্বমূল্য ছিল ২৪০ রুপি। এক্ষেত্রে দু’বছরে দাম বেড়েছে ১৯২ শতাংশ।

অন্যান্য পণ্যের মধ্যে বর্তমানে বাজারে আলু বিক্রি হচ্ছে ৪৩০ রুপি কেজি দরে। এ পণ্যটির দাম বেড়েছে ৭৯ শতাংশ। প্রতি লিটার নারিকেল তেল বিক্রি হচ্ছে ৭৪১ রুপিতে, যা আগে ছিল ৩২০ রুপি। দু’বছরে মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে ১৩২ শতাংশ।

এছাড়াও বাজারে সাদা চিনি বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৩৪০ রুপিতে, যার পূর্বমূল্য ছিল ১০০ রুপি। দু’বছরে চিনির মূল্যবৃদ্ধি পেয়েছে ২৪০ শতাংশ।

শ্রীলঙ্কায় চোখ কপালে ওঠার মতো দাম কাঁচামরিচের। দেশটিতে বাজারে গিয়ে এক কেজি কাঁচামরিচ কিনতে হলে গুনতে হবে ৯০০ রুপি। ২০১৯ সালে নভেম্বরে এই কাঁচামরিচ বিক্রি হয়েছে ৩২০ রুপিতে। এ কয়েক বছরের ব্যবধানে পণ্যটির দাম বেড়েছে ১৮১ শতাংশ।

একই দশা ডালের বাজারে। দেশটিতে এক কেজি ডালের দাম ৬২০ রুপি। পূর্বে ১২০ রুপিতে এক কেজি ডাল কিনতে পারলেও সেসব এখন সোনালি অতীত। এক ডালেই মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে ৪১৭ শতাংশ।

কেবল খাদ্যপণ্যের বাজার না, মুদ্রাবাজারেও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শ্রীলঙ্কার বেহাল দশা। বৃহস্পতিবারের (১৫ জুলাই) হিসাব অনুসারে প্রতি ডলারের বিপরীতে শ্রীলঙ্কার মুদ্রার মান ৩৬০ দশমিক ১৫ রুপি।

দিন যত আগাচ্ছে শ্রীলঙ্কার অবস্থা তত ধোঁয়াশা হচ্ছে। সম্প্রতি দেশটির প্রেসিডেন্ট গোতাবায়ে রাজাপাকশে জনগণের আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেছেন। একের পর এক ভুল প্রজেক্ট, দুর্নীতি, অদূরদর্শী ঋণ গ্রহণ ও স্বেচ্ছাচারিতায় একসময়ের সমৃদ্ধ শ্রীলঙ্কার এখন বেহাল দশা। দেশটির মানুষ সংকট থেকে পরিত্রাণের জন্য ত্রাণকর্তা হিসেবে একজন যোগ্য নেতা খুঁজছেন। তবে পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায়, এখন পর্যন্ত বলা যাচ্ছে না- কে হবে শ্রীলঙ্কার সেই কাঙ্ক্ষিত ত্রাণকর্তা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.