রহস্যে ঘেরা ‘ডিম পাড়া পাহাড়’!

রহস্যে ঘেরা ‘ডিম পাড়া পাহাড়’!

ফিচার

জুন ৭, ২০২১

রহস্যে ঘেরা আমাদের এই পৃথিবী। অনেক রহস্যের কুল-কিনারই হয়তো আমরা করে উঠতে পারি না। আর নানা অদ্ভুতুড়ে জায়গার তো বিশ্বে অভাব নেই। তেমনই একটি জায়গা হলো চান দান ইয়া। জায়গাটি মূলত চায়নাতে। আর এটা তার আঞ্চলিক নাম। এর অর্থ মূলত ডিম পাড়া পাহাড়।

চীনের এই পাহাড়টি আসলে গানডেং পর্বতশ্রেণীর একটি অংশ। তবে এতক্ষণেই হয়তো অবাক হয়ে ভাবছেন, এই পাহাড়ে কী করে ডিম পাওয়া যেতে পারে!

মূলত, এই পাহাড়ের পাদদেশে ডিম্বাকৃতির অনেক পাথরের জন্ম হয়। আর এই ডিম্বাকৃতির পাথর লম্বায় ৯ ফুট এবং চওড়ায় প্রায় ৬৫ ফুট। তবে পাহাড়ের এই একটি ডিম বা পাথরের হতে নাকি লেগে যায় প্রায় ৩০ বছর পর্যন্ত সময়। এরপর ডিম আস্তে আস্তে পরিণত হতে হতে পাহাড়ের পাদদেশে এসে জমা হয়।

চীনের গুউঝু প্রদেশের কিয়ানান বুয়ী ও মিয়াও অঞ্চল জুড়ে এই পাহাড় রয়েছে। পাথরগুলো ডিমের মতো গোল ও মসৃণ হওয়ায় একে ডিম ভেবে অনেকেই ভুল করেন। এগুলো আসলে পাথর যা এমন আকার ধারণ করেছে আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পর্বতশ্রেণী পাললিক শিলা দিয়ে গঠিত হলেও এই অংশটি তার ব্যতিক্রম। কারণ এটি গঠিত হয়েছে চুনাপাথর দিয়ে। মনে করা হয়, চুনাপাথর নরম হওয়ায় তা সহজে ক্ষয় হয় এবং সেগুলো আস্তে আস্তে জমা হতে হতে ডিমের আকার ধারণ করে।

তবে এমন ডিমের মতোই গোল কি করে হতে পারে পাথরগুলো তা ভাবার বিষয়। সেখানে যে চুনাপাথর রয়েছে, তা প্রায় ৫০ কোটি বছর আগে সৃষ্টি হয়েছিল। তবে সেগুলো এখনও কি করে অক্ষত রয়েছে সেটি একটি প্রাকৃতিক রহস্য। বাড়ির কাছে যে গ্রাম অবস্থিত সেখানকার বাসিন্দারা আবার এই পাথরগুলোকে ঈশ্বরের দান বলে মনে করেন। তারা রীতিমতো পূজা করেন এই পাথরের টুকরোগুলোকে। এক একটি বাড়িতে একটি করে এমন ডিম দেখতে পাওয়া যায়।

তবে দুঃখের বিষয় হলো, এখন সেখানে ডিম ভর্তি পাহাড়ের আকর্ষণে পর্যটন শিল্পের বিকাশ হওয়ায় ডিমগুলোকে নাকি চড়া দামে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। কেউ কেউ আবার ডিমগুলো খসে পড়ার অনেক আগেই তা চুরি করে নেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *