যে কারণে টানা ৪২ দিন কথা না বলে থাকেন এই গ্রামের বাসিন্দারা

যে কারণে টানা ৪২ দিন কথা না বলে থাকেন এই গ্রামের বাসিন্দারা

ফিচার স্পেশাল

জুন ৬, ২০২১

ভাব বিনিময় কিংবা কারো সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে ভাষা। তবে যারা কথা বলতে পারেন না তাদের মনের ভাব বোঝানোর জন্য রয়েছে আলাদা উপায়। পাহাড়বেষ্টিত তুরস্কের এক গ্রাম। এখানকার অধিবাসীরা যোগাযোগ করেন এক বিস্ময়কর ভাষায়। ‘শিস’ দিয়ে আবেগ, অনুভূতি প্রকাশ করেন তারা। উচ্চারিত এ ‘শিস’ই তাদের ভাষা।

ভাব বিনিময়ের এতো ভাষা থাকলেও মনোমালিন্য হলে গাল ফুলিয়ে কথা না বলে থাকেন অনেকেই। তবে কত দিন কথা না বলে থাকবেন? একদিন, দুইদিন, খুব বেশি হলে তিনদিন। তবে একটি গ্রাম রয়েছে যেখানকার বাসিন্দারা গুনে গুনে টানা ৪২ দিন কথা না বলে থাকেন। এই গ্রামের মানুষ গুলো খুবই অদ্ভুত। তারা বছরের ৪২ দিন কথা না বলে থাকেন। অর্থাৎ তারা সেই সময় মৌনব্রত পালন করেন। মূলত ভারতের উত্তর অঞ্চলের কিছু এলাকায় এই নিয়ম পালিত হতে দেখা যায়। কিন্তু কেন?

জানুয়ারি মাসের ১৪ তারিখ থেকে ফেব্রুয়ারির ২৫ তারিখ পর্যন্ত তারা কোনো কথা বলেন না

জানুয়ারি মাসের ১৪ তারিখ থেকে ফেব্রুয়ারির ২৫ তারিখ পর্যন্ত তারা কোনো কথা বলেন না

হিমাচল প্রদেশের মানালির কুলু জেলার গোশাল গ্রামে রয়েছে এমন রীতি। জানুয়ারি মাসের ১৪ তারিখ থেকে ফেব্রুয়ারির ২৫ তারিখ পর্যন্ত তারা কোনো কথা বলেন না। এছাড়াও বুরুয়া শানাগ এবং কুলাং গ্রামেও এই রীতি প্রচলিত রয়েছে। এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের ৪২ দিন মৌনব্রত পালন করার বিশ্বাসের সঙ্গে পুরাণের যোগসুত্র রয়েছে বলে মনে করা হয়। সোলাং ও রুয়ার মতো গ্রামে আবার চুপ থাকার পাশাপাশি বন্ধ থাকে কৃষিকাজও।

এখানে একটি বহু প্রাচীন মন্দির রয়েছে যেটি মকর সংক্রান্তির দিন বন্ধ করে দেয়া হয়

এখানে একটি বহু প্রাচীন মন্দির রয়েছে যেটি মকর সংক্রান্তির দিন বন্ধ করে দেয়া হয়

মাঘ মাসে মকর সংক্রান্তি চলাকালীন এই রীতি শুরু হয়। অনেকের বিশ্বাস এই মৌনব্রত পালন করার মাধ্যমে গভীর ধ্যান করতে করতে ঈশ্বর স্বর্গের কাছে পৌঁছে যান। ঈশ্বরের স্বর্গে যাবার পথে যাতে সমস্যা না হয় তাই তারা এই রীতি পালন করেন। আবার একটি পৌরাণিক মত অনুযায়ী বিপাশা নদীর পাশে ঋষি গৌতম তপস্যায় মগ্ন ছিলেন। তাই তার তপস্যায় যাতে ছেদ না পড়ে তাই জন্যেই এই ব্যবস্থা করা হয়েছে।

 বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বলা হয় এই জায়গাগুলো সেই সময় বরফে ঢেকে যায়। তাই এরপর সূয্যি মালা দেখা দিলে মন্দির খোলা হয়।

বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বলা হয় এই জায়গাগুলো সেই সময় বরফে ঢেকে যায়। তাই এরপর সূয্যি মালা দেখা দিলে মন্দির খোলা হয়।

এখানে একটি বহু প্রাচীন মন্দির রয়েছে যেটি মকর সংক্রান্তির দিন বন্ধ করে দেয়া হয়। ঋষি গৌতম ছাড়াও বেদব্যাস এবং কাঞ্চন নাগের মূর্তিও দেখা যায় মন্দিরে। ফেব্রুয়ারির ২৫ তারিখের পর মন্দির খোলা হয়। সেই সময় যদি মন্দিরের মেঝেতে কোন ফুল পড়ে থাকে তাহলে গ্রামবাসীরা তাকে শুভ সংকেত বলে মনে করেন। তবে ফুলের জায়গায় যদি কয়লার টুকরো পড়ে থাকে তাহলে গ্রামবাসীরা তাকে কোনো দুর্ঘটনার আভাস বলে ধরে নেন। যদিও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বলা হয় এই জায়গাগুলো সেই সময় বরফে ঢেকে যায়। তাই এরপর সূয্যি মালা দেখা দিলে মন্দির খোলা হয়। সেসব জায়গায় এতটাই বরফ জমে যে শীতকালে মানুষ কোনো কাজই করতে পারেন না। বেশিরভাগ সময়টাই তাদের ক্লান্তি অনুভূত হয়। তাই কথা বলার বা বাড়ি থেকে বেরোনোর সুযোগ প্রায় মেলে না।

এখানে এতটাই বরফ জমে যে শীতকালে মানুষ কোনো কাজই করতে পারেন না

এখানে এতটাই বরফ জমে যে শীতকালে মানুষ কোনো কাজই করতে পারেন না

তবে চুপ করে থাকলেও গ্রামের মানুষ এই সময়ে হেডফোনে গান শোনেন, বেড়াতে যান, বাড়ির কাজ করেন। এছাড়া কোনো পর্যটককেও কথা বলার সুযোগ দেন না গ্রামের বাসিন্দারা। অদ্ভুত এই গ্রামের মানুষ। বিশ্বের একেক দেশের একেক রীতি রয়েছে। যা বিংশ শতাব্দীতে এসেও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করছেন তারা। আমাদের কাছে অদ্ভুত মনে হলেও তাদের কাছে এগুলো খুবই স্বাভাবিক বিষয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *