মোহাম্মদপুরের দখলি মাদরাসার কর্তৃত্ব হারালেন মামুনুল হক

মোহাম্মদপুরের দখলি মাদরাসার কর্তৃত্ব হারালেন মামুনুল হক

দেশজুড়ে

জুলাই ১৯, ২০২১ ৯:০৮ অপরাহ্ণ

গুঞ্জন চলছিল রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জামি’আ রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদরাসার কর্তৃত্ব হারাচ্ছেন আলোচিত হেফাজত নেতা মামুনুল হক ও তার বড় ভাই মাহফুজুল হক। অবশেষে তাই হলো। মাদরাসাটি ছেড়ে দিয়েছেন পরিচালক মাহফুজুল হক।

সোমবার (১৯ জুলাই) সকাল নয়টার দিকে অনুসারী শিক্ষক-ছাত্রদের নিয়ে মাদরাসাটি ছেড়ে যান তিনি। পরে মাদরাসার প্রধান ফটকে তালা দেওয়া হয়।

মাদরাসার চাবি সরকার স্বীকৃত ইসলামি শিক্ষা বোর্ড আল হাইআতুল উলয়ার চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসানের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হবে বলে জানান মাহফুজুল।

তিনি বলেন, মাহমুদুল হাসান সাহেব অন্যান্য শীর্ষ আলেমদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত একটি কল্যাণকর এবং সুন্দর সমাধান দেবেন বলে প্রত্যাশা করি।

মাহফুজুল হকের সঙ্গে অন্য শিক্ষকদেরও মাদরাসা ছাড়ার কারণ জানতে চাইলে জামিয়া রহমানিয়ার শিক্ষক মাওলানা নুরুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা আমাদের অধ্যক্ষের অধীনে সেখানে থাকি। কোনো প্রশ্নের উত্তর জানতে চাইলে উনাকে জিজ্ঞেস করুন।

জামিয়া রহমানিয়া মাদরাসার আরেক শিক্ষক মাওলানা আনিসুর রহমান বলেন, মাদরাসার চাবি হস্তান্তর করতে বলা হয়েছে। তাহলে তো সবাইকে বের হতে হবে। না হলে তালা মারবে কীভাবে। তাহলে কি শিক্ষকরা ভেতরে আটকা থাকবে?

এর আগে সকাল পৌনে নয়টার দিকে মাদরাসা থেকে ফেসবুক লাইভে আসেন মাহফুজুল হক। মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিভিন্নভাবে কথা আসছে, আমাদের এ প্রতিষ্ঠান ছাড়তে হবে। এ ভবন আমাদের ছাড়তে হবে। আমরা লক্ষ্য করছিলাম। আমাদের কাছে নিয়মতান্ত্রিকভাবে কোনো নোটিশ আসেনি। আমাদের দেশের শীর্ষ আলেমরা এ বিষয়টি নিয়ে কোনো পরামর্শও করছেন না।

মাহফুজুলের ভাই মামুনুল হক নিজেও এই মাদরাসার শিক্ষক। নেতৃত্বে পরিবর্তন আসলেও তাকে মাদরাসা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে কি না, সেটি নিশ্চিত করেননি তিনি।

মাহফুজুল হক বলেন, মাওলানা মামুনুল হক এখানকার শিক্ষক। তিনি তো এখন জেলে। উনি বাইরে থাকলে বলতে পারতাম। এটা উনার বিষয়, তিনি থাকবেন কী থাকবেন না।

এ সময় মাদরাসা ছাত্র-শিক্ষকদের অধৈর্য না হওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে মাদরাসা ভবনটি সোমবারের মধ্যে না ছাড়লে ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে উচ্ছেদ অভিযান হওয়ার কথা ছিলো বলে জানা গেছে।

ওয়াকফ অ্যাস্টেট অনুমোদিত জামি’আ রাহমানিয়া আরাবিয়া সাত মসজিদ মাদরাসা কমিটির এক সদস্য বলেন, আজ ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে উচ্ছেদ অভিযান হওয়ার কথা ছিল। তার আগেই সবাই মাদরাসা ছেড়ে চলে গেছেন। তারা মাদরাসার চাবি মাহমুদুল হাসানের কাছে হস্তান্তর করবেন। এখন আমরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করছি, আশা করছি মাদরাসা ভবনটি কমিটির কাছে হস্তান্তর করা হবে।

প্রসঙ্গত, মোহাম্মদপুরের জামি’আ রাহমানিয়া আরাবিয়া শীর্ষস্থানীয় একটি কওমি মাদরাসা। ১৯৮৮ সালে ওয়াকফ সম্পত্তিতে গড়ে ওঠা এই মাদরাসাটি ২০০১ সালে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় আল্লামা আজিজুল হকের পরিবার। তার ছেলে মাহফুজুল হক ও মামুনুল হকরা পরে হেফাজতের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন।

ওয়াকফ প্রশাসনে নিবন্ধিত মাদরাসাটি থেকে ওই সময়ের ৩৬ জন শিক্ষককে বের করে দেওয়া হয়। সেই সময় থেকে মাদরাসাটির পরিচালনার দায়িত্ব ফিরে পেতে আইনি লড়াই চালিয়ে যায় ওয়াকফ অ্যাস্টেট পরিচালনা কমিটি। আদালতের রায়, ওয়াকফ প্রশাসনের পক্ষে আদেশ থাকার পরও এতদিন মাহফুজুল হক ও মামুনুল হকরা প্রতিষ্ঠানটি নিয়ন্ত্রণে রাখে।

সম্প্রতি হেফাজেতের তাণ্ডব ও মামুনুল হকের রিসোর্ট কাণ্ডের পর বিষয়টি আবারও আলোচনায় আসে। সর্বশেষ ১৮ মে বাংলাদেশ ওয়াকফ প্রশাসন জামি’আ রাহমানিয়া আরাবিয়া সাত মসজিদ মাদরাসা ওয়াকফ অ্যাস্টেট পরিচালনার জন্য ২১ সদস্যের একটি পরিচালনা কমিটি অনুমোদন দেয়। তিন বছরের জন্য এই কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। সেই কমিটির সভাপতি আব্দুর রহীম। কমিটির সহ-সভাপতি হারুনুর রশীদ, আলীমুজ্জামান, সম্পাদক কাজী সাহিদুর রহমান, অর্থ সম্পাদক হাফিজ আব্দুল গাফফার, রঈস মাওলানা হিফজুর রহমান, শাইখ মুফতি মনসুরুল হক। কমিটির সদস্য হিসেবে আছেন ক্বারী মুজাফ্ফর হুসাইন, ডা. আব্দুল কাইউম, মুজাম্মেল হুসাইন, আকরাম হুসাইন, উমর ফারুক মিল্কী, মুনীর সাঈদ, আলী হুসাইন, ডা. আহসানুল্লাহ, ডা. ইখলাসুর রহমান, আব্দুল হালীম, আব্দুর রব, হিফজুল বারী।

গত ২৯ জুন বাংলাদেশ ওয়াকফ প্রশাসন জামি’আ রাহমানিয়া আরাবিয়া সাত মসজিদ মাদরাসা ওয়াকফ অ্যাস্টেট’র সম্পত্তি অনুমোদিত কমিটির কাছে বুঝিয়ে দিতে ঢাকা জেলা প্রশাসককে চিঠি দেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *