ভারতে হিসেবের চেয়েও আক্রান্ত-মৃত দশ গুণ বেশি!

ভারতে হিসেবের চেয়েও আক্রান্ত-মৃত দশ গুণ বেশি!

আন্তর্জাতিক স্লাইড

মে ১৩, ২০২১ ১২:১০ অপরাহ্ণ

ভারতে করোনায় মৃতের সংখ্যা আড়াই লাখ ছাড়িয়েছে। দেশটিতে সপ্তাহ ধরেই চার হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুর তথ্য জানা গেছে। আক্রান্তে দ্বিতীয় ও মৃত্যুতে তৃতীয় অবস্থানে থাকা ভারতে এখন পর্যন্ত মোট সংক্রমিত হয়েছেন ২ কোটি ৩৭ লাখ ২ হাজার ৮৩২ জন। এখন পর্যন্ত মোট মৃত্যু হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৩৫১ জনের।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও প্রাণহানির পরিসংখ্যান রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডওমিটারের তথ্যানুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১৩ মে) সকাল ৮টা পর্যন্ত এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

তবে দেশটির বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, সরকারি হিসেবের চেয়ে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা দশ গুণ বেশি। এদিকে, টিকার মজুত ফুরিয়ে আসছে নয়াদিল্লির পাশাপাশি বিভিন্ন রাজ্যে। এর মধ্যেই মহারাষ্ট্রের অবস্থা আরও অবনতি হওয়ায় ৩১ মে পর্যন্ত লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানো হতে পারে বলে জানিয়েছে দেশটির রাজ্য সরকার।

বৃহস্পতিবার ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে বিপর্যস্ত ভারতের অধিকাংশ রাজ্য। এমনকি প্রত্যন্ত অঞ্চলেও মারাত্মক আকার ধারণ করেছে মহামারি কোভিড নাইন্টিন। করোনায় আক্রান্তদের স্বাস্থ্যবিধি যেখানে না মানলেই নয় সেখানে জায়গা না থাকায় উত্তর প্রদেশের হাসপাতালে গাদাগাদি করে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে কোভিড আক্রান্তদের। শয্যা না পাওয়ায় অনেকের জায়গা হয়েছে হাসপাতালের বাইরে।

প্রতিদিন গড়ে তিন লাখের বেশি আক্রান্ত হওয়া দেশটিতে স্বাস্থ্যব্যবস্থা একেবারে ভেঙে পড়েছে। অক্সিজেনের জন্য এখনো রাজ্যে রাজ্যে হাহাকার। তবে অক্সিজেনের জোগান দিতে এরই মধ্যে দেড় লাখ অক্সিকেয়ার কেনার অনুমোদন দিয়েছে সরকার। অক্সিকেয়ার ব্যবস্থায় মাত্রার ওপর নির্ভর করে অক্সিজেন দেয়া হয়।

এর মধ্যেই ফুরিয়ে এসেছে টিকার মজুত। নয়াদিল্লিতে টিকা সংকটের কারণে ১৮ থেকে ৪৪ বছর বয়সীদের টিকাদান বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। টিকা সংকটের কারণে করোনা পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ভয়াবহ তথ্য দিয়ে ভারতীয় বিশেষজ্ঞদের দাবি, দেশটিতে প্রতিদিন সরকারের পক্ষ থেকে আক্রান্ত ও মৃতের যে সংখ্যা উল্লেখ করা হচ্ছে তা আরো ১০ গুণ বেশি। করোনা নিয়ন্ত্রণে তাই সাধারণ মানুষও টিকার বিকল্প কিছু দেখছেন না।

হাসপাতালে আসা এক নারী জানান, ভারতের সব মানুষকে টিকার আওতায় আনা গেলেই কেবল এ করোনা থেকে মুক্তি পেতে পারি আমরা। এর আগে নয়।

আরেকজন বলেন, আমি মনে করি, সবাইকেই টিকা দেয়া উচিত। এর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। আমি চাই সবাই টিকা গ্রহণ করুক।

এদিকে, মহারাষ্ট্রের অবস্থাও বেশ নাজুক। রাজ্যটিতে করোনা আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা হু হু করে বাড়ায় লকোডাউনের মেয়াদ আগামী ৩১ মে পর্যন্ত বাড়ানোর চিন্তা করছে রাজ্যসরকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *