ব্ল্যাক ফাঙ্গাস: কারণ, লক্ষণ ও বাঁচার উপায়

ব্ল্যাক ফাঙ্গাস: কারণ, লক্ষণ ও বাঁচার উপায়

স্পেশাল স্বাস্থ্য

মে ২৬, ২০২১ ১১:৪৪ পূর্বাহ্ণ

স্বাস্থ্য ডেস্ক: সারা বিশ্বে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। এর মধ্যেই ভয়ংকর এই ভাইরাস ব্ল্যাক ফাঙ্গাসনামে নতুন রোগের জন্ম দিয়েছে। যা সবার মধ্যে নতুন আরেক আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে ইতোমধ্যে অনেকেই প্রাণ হারিয়েছেন। ব্ল্যাক ফাঙ্গাস হানা দিয়েছে আমাদের দেশেও। এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন দুইজন, এরমধ্যে একজনের মৃত্যু ঘটেছে।

কীভাবে কোনো ব্যক্তি এই রোগে আক্রান্ত হন?

মিউকর নামে এক ছত্রাকের প্রভাবে এই রোগ হয়। সাধারণত আর্দ্র স্থানে এটি হয়। ভারতের মতো আর্দ্র দেশে এটি অনেক স্থানেই থাকে। সাধারণত শ্বাসের সময়ে বা শরীরে কাটা অংশের মাধ্যমে এটি দেহে প্রবেশ করে। কিন্তু সাধারণত আমাদের দেহের রোগ প্রতিরোধ শক্তি এর বিরুদ্ধে সুরক্ষা প্রদান করে।

কিন্তু বর্তমানে করোনা অতিমারীর কারণে পরিস্থিতি ভিন্ন। বিশেষজ্ঞদের মতে, গুরুতর করোনা আক্রান্তদের সুশ্রষার জন্য স্টেরয়েড প্রয়োগ করা হচ্ছে। সেই স্টেরয়েড রক্তে শর্করার পরিমাণ বৃদ্ধি করে। কিছু ওষুধ রোগীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উপরেও প্রভাব ফেলে। আর ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধি পাওয়া সুগার লেভেল হতে পারে মারাত্মক।

বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক অম্বরীশ মিথলের কথায়, একদিকে রক্তে উচ্চ শর্করা। অন্যদিকে অক্সিজেনের মাত্রা কম, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস। ফলে সবমিলিয়ে এটি ব্ল্যাক ফাঙ্গাসসংক্রমণের সবকটি শর্তই পূরণ করে। সিংহভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে মূলত ডায়াবেটিসের রোগী যারা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, তাদেরই ব্ল্যাক ফাংগাসের সংক্রমণ হয়েছে।

অপরিচ্ছন্ন হাসপাতাল থেকেও ব্ল্যাক ফাঙ্গাস ছড়াতে পারে। এর জন্য প্রথম থেকেই প্রয়োজন পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা।

লক্ষণ কী?

এর কিছু লক্ষণ হলো- মাথা যন্ত্রণা, জ্বর, চোখের চারপাশে ব্যথা, নাক বা সাইনাস বন্ধ হয়ে আসা, দৃষ্টিশক্তি কমে আসা।

বাঁচার উপায়?

চোখের চারপাশে ব্যথা, নাক বন্ধ, মাথা যন্ত্রণা এই উপসর্গগুলো ছাড়াও মুখের ভেতর কিছু সমস্যা দেখা যেতে পারে। আর তাই চিকিৎসকরা প্রথম থেকেই মুখের ভেতরের যত্ন নিতে বলছেন। ডেন্টিস্টদের মতে, মুখের ভেতর পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখলে এই ধরনের ইনফেকশন এড়ানো সম্ভব।

করোনায় অসুস্থ হওয়া কালীন স্টেরয়েড এবং বিভিন্ন রকমের ওষুধের কারণে মুখের ব্যাকটেরিয়া পরিমাণ বৃদ্ধি হতে থাকে। সেই জন্য দিনে দু থেকে তিনবার করে দাঁত ব্রাশ করার পরামর্শ দিচ্ছেন ডেন্টিস্টরা। প্রয়োজনে ওরাল ক্লিন আপ ব্যবহার করতে বলা হচ্ছে।

করোনা থেকে সেরে ওঠার পরে টেস্ট রিপোর্ট নেগেটিভ এলে পুরানো ব্রাশ পরিবর্তন করে নতুন দাঁত মাজার ব্রাশ ব্যবহার করার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।  সেই সঙ্গে দিনে বেশ কয়েকবার মুখ ধুতে হবে।

করোনা থেকে যারা সেরে উঠেছেন তারা একই জায়গায় পরিবারের অন্যদের ব্রাশের সঙ্গে নিজের ব্রাশ রাখবেন না। এর পাশাপাশি স্ক্র্যাপার দিয়ে জিহবা পরিষ্কার করতে হবে।

চিকিৎসা কী?

এর চিকিৎসা সাধারণত বিশেষ ইঞ্জেকশন মারফত ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে হয়। এই রোগের চিকিৎসা অজানা নয়। সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু হলে, এটি প্রতিরোধ করা সম্ভব। তবে এর পাশাপাশি ডায়াবেটিস থাকা করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা প্রয়োজন বলেও মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *