বেসরকারি হাসপাতালে আইসিইউয়ের বিল আকাশছোঁয়া

বেসরকারি হাসপাতালে আইসিইউয়ের বিল আকাশছোঁয়া

স্বাস্থ্য স্লাইড

মে ১, ২০২১ ১০:৪১ পূর্বাহ্ণ

করোনাকালীন তীব্র সংকটে বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে আইসিইউয়ের শয্যার বিল আকাশছোঁয়া। মানুষের বিপদের সুযোগে অনেক হাসপাতালে নতুন করে খোলা হচ্ছে নামসর্বস্ব আইসিইউ ইউনিট। দালালচক্রের খপ্পরে পড়ে রোগী ভর্তি করানোর পর নিঃস্ব হচ্ছেন অনেকে। এসব ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. ফজলে রাব্বী চৌধুরী।

মুমূর্ষু অবস্থায় রাজধানীর কিউর হাসপাতালের আইসিইউ থেকে গ্রিন লাইফের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয় আঞ্জুমান আরা নামে এক নারীকে। এখানে রোগী সুস্থতাবোধ করলে দুটি আইসিইউয়ের প্রতিদিনের ব্যয় এবং মানের পার্থক্য নজরে আসে স্বজনদের।

কিউর হাসপাতালের সেবা নিয়ে ভোগান্তির কথা জানান বর্তমানে ভর্তি থাকা ওই রোগীর স্বজনরা ছাড়াও অনেকে। প্রিয়জনের জীবন বাঁচাতে আরও অনেক আইসিইউয়ের অভিজ্ঞতার বর্ণনা দেন ভুক্তভোগীরা।

বিল বাড়াতে অপ্রয়োজনে রোগীকে আইসিইউতে নেওয়ার ঘটনা অহরহ ঘটছে বলে অভিযোগ বিশেষজ্ঞদেরও। তাদের দাবি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা দেশের জাতীয় গাইডলাইন মানছেন না অধিকাংশ বেসরকারি হাসপাতাল।

একটি সরকারি হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. ফজলে রাব্বী চৌধুরী বলেন, ৬০ থেকে ৭০ লিটার অক্সিজেন আমরা ওয়ার্ডে দেই। প্রাইভেট হাসপাতালের পলিসি হলো ১৫ লিটারের বেশি অক্সিজেন লাগলেই তারা আইসিইউতে নিয়ে যাবে। তাহলে আইসিইউতে ঢোকা মানে আইসিইউ রিলেটেড খরচে পড়ে যাচ্ছেন। যারা প্রাইভেট হাসপাতালের আইসিইউয়ে ভর্তি আছেন আসলে সবার এটি প্রয়োজন নেই, তাদের ফ্লোরে বা ওয়ার্ডে চিকিৎসা করা যেত। শুধু একটু পলিসির পার্থক্যের প্রয়োজন।

গ্রেডিংয়ের আওতায় নিয়ে আসা যাচ্ছে না বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে। এ জন্য মান অনুযায়ী আইসিইউয়ের বিলও নির্ধারণ করা যাচ্ছে না বলে জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকলে সেখানে ব্যবস্থা নেব। কোনো অবস্থাতেই মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া যাবে না।

রোগীদের অভিযোগ, কোভিড হাসপাতালের সামনে থাকা অ্যাম্বুলেন্সের চালকদের অনেকেই বিভিন্ন হাসপাতালের নামসবর্স্ব আইসিইউতে রোগীদের নিয়ে যান। যেখানে লাখ লাখ টাকা ব্যয় করেও রোগীকে বাঁচানো সম্ভব হচ্ছে না। তাই দালালচক্র ঠেকাতে সবখানে নজরাদারি বাড়ানো দরকার বলে করেন তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.