বিশ্বের সবচেয়ে বেশি হেলে থাকা আকাশচুম্বী ভবন

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি হেলে থাকা আকাশচুম্বী ভবন

ফিচার স্পেশাল

নভেম্বর ২০, ২০২১ ৯:২১ পূর্বাহ্ণ

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি শহরে অবস্থিত আকাশচুম্বী টাওয়ার ক্যাপিটাল গেইট। নির্মাণের পর থেকে এখন পর্যন্ত এটি বিশ্বের অন্যতম ব্যতিক্রমী এবং অভিনব স্থাপনার মর্যাদা পেয়ে আসছে। গিনিস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের স্বীকৃতি অনুযায়ী এটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি দূরত্বে হেলে থাকা আকাশচুম্বী ভবন।

পিসা টাওয়ার

পিসা টাওয়ার

ভূমিতে নিজের জায়গা থেকে ভবনটির উপরের অংশ ১৮ ডিগ্রী অ্যাঙ্গেলে পশ্চিম দিকে হেলে আছে। যা ইতালির বিখ্যাত পিসা টাওয়ার থেকে পাঁচগুণ বেশি। পুরো ভবনের ১৭টি তলা ঝুঁকে আছে বাইরের দিকে। এর ফলে টাওয়ার ভিত্তিতে সৃষ্টি হচ্ছে প্রচুর পরিমাণ চাপ। এই চাপ সহ্য করার জন্য মাটির নিচে রাখা হয়েছে হাজার হাজার টন কংক্রিট এবং স্টিলের ভিত্তি।

পিসা টাওয়ার থেকে পাঁচগুণ বেশি অ্যাঙ্গেলে ক্যাপিটাল গেইট

পিসা টাওয়ার থেকে পাঁচগুণ বেশি অ্যাঙ্গেলে ক্যাপিটাল গেইট

দূর থেকে দেখতে হেলানো এই টাওয়ারটি মনে হয় কখন যেন ভেঙ্গে পড়বে। তবে এটি ব্যতিক্রমী এই ভবনের অন্যতম আকর্ষণ। ভবনটি বানানো হয়েছে সেরকম মজবুত করে। নির্মাণের আগে মালিক প্রতিষ্ঠান চেয়ে ছিল, শুধু উচ্চতা না বাড়িয়ে ভবনটি যেন ডিজাইন এবং স্থাপত্য রীতির দিক দিয়ে হয় বিশ্বের অন্যান্য ভবনগুলো থেকে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। সেভাবে ডিজাইন করা হয়েছে ক্যাপিটাল গেইট টাওয়ারের।

মরুর শহরে ঝিকঝিক করে নজর কাড়ে ৫৪০ ফুট উঁচু ভবনের ডায়মন্ড আকৃতির গ্লাস

মরুর শহরে ঝিকঝিক করে নজর কাড়ে ৫৪০ ফুট উঁচু ভবনের ডায়মন্ড আকৃতির গ্লাস

বর্তমানে এটির আবুধাবি শহরের অন্যতম আকর্ষণ। মরুর শহরে ঝিকঝিক করে নজর কাড়ে ৫৪০ ফুট উঁচু ভবনের ডায়মন্ড আকৃতির গ্লাস। হেলানো আকৃতির জন্য টাওয়ার ব্যবহৃত গ্লাস প্যানেলগুলো বিশেষভাবে কাস্টমাইজ করে বানানো হয়েছে। অদ্ভুত আকৃতির কারণে পুরো ভবনের প্রতিটি ফ্লোর ও আকার এবং ডিজাইনের দিকে অন্যগুলো থেকে আলাদা।

৩৫ তলা এই ভবনের ১৫টি বরাদ্দ দেওয়া অফিশিয়ালস স্পেসের জন্য

৩৫ তলা এই ভবনের ১৫টি বরাদ্দ দেওয়া অফিশিয়ালস স্পেসের জন্য

৩৫ তলা এই ভবনের ১৫টি বরাদ্দ দেওয়া অফিশিয়ালস স্পেসের জন্য। এছাড়া আছে রেস্টুরেন্ট, বার,  সুইমিংপুল সহ কমার্শিয়াল এরিয়া। ভবনের উপরের অংশে আছে আবুধাবির অন্যতম বিলাসবহুল হোটেল আন্দাজ ক্যাপিটাল। ২০০ কক্ষ বিশিষ্ট এই হোটেলের প্রতিটি কক্ষ অন্যটি থেকে ব্যতিক্রম। ভবনের ৩৩ তলায় আছে একটি বিলাসবহুল প্রেসিডেন্সিয়াল সুইট। ক্যাপিটাল গেইট টাওয়ারের উপর অবস্থিত হোটেল থেকে উপভোগ করা যায় আবুধাবি শহরের সৌন্দর্য।

ভবনের উপরের অংশে আছে আবুধাবির অন্যতম বিলাসবহুল হোটেল

ভবনের উপরের অংশে আছে আবুধাবির অন্যতম বিলাসবহুল হোটেল

বিখ্যাত আবুধাবি এক্সিবিশন সেন্টার পরিষ্কার দেখা যায় এখান থেকে। এছাড়া আবুধাবির পাশেই অবস্থিত পারস্য উপসাগর এবং সাগরে থাকা দ্বীপের অপরূপ দৃশ্য উপভোগ করা যায় হোটেল কক্ষে বসে। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি হেলানো এই বিল্ডিং এর নির্মাণকাজ ছিল অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। সমালোচকরা সন্ধিহান ছিলেন এই ভবনের ভবিষ্যৎ নিয়ে। ধারণা করা হয়েছিল এই ডিজাইনের নির্মাণ প্রায় অসম্ভব। তবে সব সংশয় উড়িয়ে দিয়ে ২০১১ সালে নির্মাণ কাজ শেষ হয় ক্যাপিটাল গেইট টাওয়ারের।

ন্যাশনাল এক্সিবিশন কোম্পানির মালিকানায় থাকা এই টাওয়ার তৈরিতে খরচ হয়েছিল ২৩১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার

ন্যাশনাল এক্সিবিশন কোম্পানির মালিকানায় থাকা এই টাওয়ার তৈরিতে খরচ হয়েছিল ২৩১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার

ক্যাপিটাল গেইট টাওয়ারে যে প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে তা আগে আর কখনো ব্যবহার করা হয়নি। আবুধাবি ন্যাশনাল এক্সিবিশন কোম্পানির মালিকানায় থাকা এই টাওয়ার তৈরিতে খরচ হয়েছিল ২৩১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা বাংলাদেশি টাকায় ১৯৮৪ কোটি ৭৭ লাখ ৯৪ হাজার ৮৯০ টাকা। দীর্ঘদিন ডিজাইন নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর ২০০৭ সালে শুরু হয়েছিল এই ভবনের নির্মাণকাজ। আবুধাবি ন্যাশনাল এক্সিবিশন কোম্পানির দুই বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ করে তৈরি করেছে আবুধাবি সেন্টার নামে  বিলাসবহুল মাইক্রো মেগাসিটি। যেখানে থাকবে ২৩টি আকাশচুম্বী কমার্শিয়াল ভবন। ক্যাপিটাল গেইট এই মেগাসিটির কেন্দ্রে অবস্থিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *