বিদেশি নয়, দরকার দেশি কোচ: মোহাম্মদ রফিক

বিদেশি নয়, দরকার দেশি কোচ: মোহাম্মদ রফিক

খেলা স্লাইড

মে ২৭, ২০২১ ৯:৪১ পূর্বাহ্ণ

জাতীয় দলের কোচিং স্টাফে আরো বেশি দেশি কোচদের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানালেন সাবেক ক্রিকেটার এবং কোচ মোহাম্মদ রফিক। মিরাজ-নাঈমদের মত তরুণদের কাছ থেকে সেরাটা বের করতে হলে, বিদেশি নয়, দেশিদের দরকার বলে মনে করেন তিনি। অন্যদিকে, দুই ওয়ানডেতে জিতলেও জুনিয়র ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্সে একেবারেই খুশি নন তুষার ইমরান। ঘরের মাঠে তাদের দায়িত্ব নেয়ার আহ্বান সিনিয়র এই ক্যাম্পেইনারের।

প্রথম ওয়ানডেতে ২৫৮ রানের জবাবে, উড়ন্ত সূচনা পেয়েছিলো শ্রীলঙ্কা। তাসকিনের একের পর এক ফুলপিচ ডেলিভারি’গুলো বাউন্ডারি ছাড়া করছিলেন লঙ্কান ওপেনাররা। তখন তামিমের এক সিদ্ধান্তে ঘুরে যায় খেলার মোড়। বল হাতে নিয়ে লঙ্কানদের চোখ ছানাবড়া করে দেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তার ঘূর্ণিতে ছত্রখান হয়ে যায় সিংহের ডেরা। দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও একই দশা লঙ্কানদের। মিরাজের কোনো জবাবই জানা ছিলোনা কুশল, ধনঞ্জয়াদের। উইকেটের পাশাপাশি ইকোনোমিক বোলিংয়েও নজর কাড়েন তিনি। দুই ম্যাচে ৭ উইকেট এসেছে ৪ এর নীচে ইকোনোমিতে।

প্রশ্ন আসতে পারে, হঠাৎ কেন এই মিরাজ বন্দনা। কারণ তার একটা কথা। ভালো পারফরম্যান্সের পুরস্কার হাতে তিনি ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন নিজের গুরুদের। আশ্চর্য হলেও সত্যি যেখানে ছিলোনা কোনো বিদেশি হোমড়াচোমড়াদের নাম। কাড়ি কাড়ি ডলার খরচ করে বিসিবি যাদের নিয়োগ দিয়েছিল মিরাজদের দেখভাল করার জন্য তাদের থেকেও বেশি উপকার নাকি এসেছে দেশী কোচদের হাত ধরে।

মিরাজের এই কথাটাকে শতভাগ সত্যি বলে মানেন আরেক সাবেক বাঁ-হাতি স্পিনার মোহাম্মদ রফিক। তাই তো, বিসিবিকে, বিদেশি কোচের পাশাপাশি তরুণদের দেখভালের জন্য দেশী স্টাফদের ওপর ভরসা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক ক্রিকেটার মোহাম্মদ রফিক বলেন, ‘বিদেশিরা শুধু কন্ট্রাক্ট থাকলেই আপনাকে সাহায্য করেব। চুক্তি শেষ হলেই বাড়ি চলে যাবে। তাদের এখানকার কারো জন্য কোনো ভালবাসা কাজ করে না। এটাই স্বাভাবিক। দেশি কোচরা জানে, কোন ক্রিকেটার কোন জায়গা থেকে উঠে এসেছে। তারা কেমন মানসিকতার। তাই তাদেরকে সাহায্য করা সহজ হয়। বিসিবির উচিৎ স্টাফদের মধ্যে আরো দেশীদের সংখ্যা বৃদ্ধি করা। এতে ছেলেরা উপকৃত হবে।’

এদিকে, দুই ওয়ানডে জিতে ইতোমধ্যেই সিরিজটা পকেটে ঢুকিয়ে ফেলেছে বাংলাদেশ। কিন্তু এখনো ব্যাটসম্যানদের পারফরম্যান্সের খুশি নন কেউই। বিশেষ করে জুনিয়র ক্রিকেটাররা বারবার সুযোগ পেয়েও, কাজে লাগাতে না পারায় হতাশ সাবেক ক্রিকেটাররা। দলের সিনিয়রদের কাছ থেকে এখনো শিখতে না পারাটা তাদের ব্যর্থতাই বলেই মনে করেন তারা।

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক ক্রিকেটার তুষার ইমরান বলেন, জুনিয়র ক্রিকেটাররা একেবারেই আশানুরূপ পারফর্ম করতে পারছে না। তারা অনেকদিন ধরে দলের সঙ্গে আছেন, এরপরও নিজেদের উন্নতি করতে না পারাটা হতাশাজনক। দলে তামিম-সাকিব-মুশফিকের মতো ক্রিকেটাররা কিভাবে দিনের পর দিন পারফর্ম করছেন, অন্তত সেটা দেখেও তাদের শেখা উচিৎ বলে মনে করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.