বঙ্গবন্ধুর ‘জুলিও কুরি শান্তি পুরস্কার’ প্রাপ্তির ৪৮তম বার্ষিকী উপলক্ষে নকলা প্রেস ক্লাবের ভার্চুয়াল আলোচনা

বঙ্গবন্ধুর ‘জুলিও কুরি শান্তি পুরস্কার’ প্রাপ্তির ৪৮তম বার্ষিকী উপলক্ষে নকলা প্রেস ক্লাবের ভার্চুয়াল আলোচনা

দেশজুড়ে

মে ২৪, ২০২১ ১২:৪১ অপরাহ্ণ

নকলা (শেরপুর) প্রতিনিধি:

বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এঁর ‘জুলিও কুরি’ শান্তি পদক প্রাপ্তির ৪৮তম বার্ষিকী উপলক্ষে শেরপুরের নকলা প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে ভার্চুয়াল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৩ মে রবিবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত এ ভার্চুয়াল আলোচনায় বিশ্ব নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এঁর ‘জুলিও কুরি’ শান্তি পদক প্রাপ্তির উপর আলোকপাত করা হয়।

নকলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. মোশারফ হোসাইনের সভাপতিত্বে ও সদস্য সিমানুর রহমানের পরিচালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন- নকলা প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি খন্দকার জসিম উদ্দিন মিন্টু, সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন সরকার বাবু, যুগ্ম সম্পাদক নাসির উদ্দিন ও দেলোয়ার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ফজলে রাব্বী রাজন ও নূর হোসেন, দপ্তর সম্পাদক সেলিম রেজা, কোষাধ্যক্ষ আব্দুল্লাহ আল-আমিন, প্রচার-প্রকাশনা সম্পাদক নাহিদুল ইসলাম রিজন, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক আসাদুজ্জামান সৌরভ, কার্যকরী সদস্য সীমানুর রহমান সুখন, মোশাররফ হোসেন শ্যামল, সদস্য মোফাজ্জল হোসেন ও সুজন মিয়া প্রমুখ। এ ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় নকলা প্রেসক্লাবের অন্যান্যরা পর্যায়ক্রমে সংযুক্ত হয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন।

বক্তারা বলেন, ১৯৭৩ সালের ২৩ মে, বিশ্ব শান্তি পরিষদ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘জুলিও কুরি’ শান্তি পদকে ভূষিত করে। বঙ্গবন্ধুর জুলিও কুরি শান্তি পুরস্কার প্রাপ্তির ৪৮তম বার্ষিকী উদযাপনের এই দিনে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে বক্তারা স্মরণ করেন মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে।

তারা বলেন, ১৯৭১ সালে লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। স্বাধীন বাংলাদেশে শান্তির পায়রা উড়িয়ে এই বারতা প্রথম দিয়েছেন তো শান্তিপ্রিয় মহান নেতা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এর স্বীকৃতি হিসেবে স্বাধীনতা প্রাপ্তির প্রায় মাত্র এক বছরের মাথায় বাংলাদেশ পেয়েছিল আন্তর্জাতিক সম্মান। বাঙালি জাতি রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা ও স্বাধীনতার স্থপতি, গণতন্ত্র ও শান্তি আন্দোলনের পুরোধা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ভূষিত হন ‘জুলিও কুরি’ শান্তি পদকে। এই পুরস্কার প্রাপ্তি ছিল বঙ্গবন্ধুর কর্ম ও বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদানের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, যা তিনি এনে দিতে পেরেছিলেন তার প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশকে, বাংলাদেশের মানুষকে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘জুলিও কুরি’ শান্তি পদক প্রাপ্তির ৪৮তম বার্ষিকীতে দেশ ও জাতির শান্তির লক্ষ্যে সকলকে মুক্তিযোদ্ধের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করার আহবান জানান তারা।

‘জুলিও কুরি’ শান্তি পদকের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বিশ্ববিখ্যাত দুই পদার্থবিজ্ঞানী মেরি কুরি ও পিয়েরে কুরির নাম। বিশ্ব শান্তির সংগ্রামে এই বিজ্ঞানী দম্পতির অবদান অনস্বীকার্য। তাদের অবদান চিরস্মরণীয় করে রাখতে বিশ্ব শান্তি পরিষদ ১৯৫০ সাল থেকে তাদের নামে এ শান্তি পদক প্রবর্তন করে। ফ্যাসিবাদবিরোধী, সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংগ্রামে ও মানবতার কল্যাণে শান্তির স্বপক্ষে বিশেষ অবদানের জন্য ব্যক্তি ও সংগঠনকে ‘জুলিও কুরি’ পদক প্রদান করা হয়। এর পর থেকে অনেক ব্যক্তি ও সংগঠনকে এই পদকে ভূষিত করা হয়েছে।

১৯৭২ সালের ১০ অক্টোবর তারিখে চিলির রাজধানী সান্তিয়াগোতে বিশ্ব শান্তি পরিষদের প্রেসিডেন্সিয়াল কমিটির সভায় বিশ্বের ১৪০টি দেশের শান্তি পরিষদের ২০০ প্রতিনিধির উপস্থিতিতে বাঙালি জাতির মুক্তির আন্দোলন ও বিশ্ব শান্তির স্বপক্ষে বঙ্গবন্ধুর জোরাল ভূমিকা ও অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘জুলিও কুরি’ শান্তি পদক প্রদানের জন্য বিশ্ব শান্তি পরিষদের তৎকালীন মহাসচিব রমেশ চন্দ্র বঙ্গবন্ধু’র নাম প্রস্তাব করেন। প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। বিশ্ব শান্তি পরিষদের বাংলাদেশ প্রতিনিধি ছিলেন বাংলাদেশ শান্তি পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আলী আকসাদ।

১৯৭৩ সালের ২৩ মে তারিখে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের উত্তর প্লাজায় উন্মুক্ত চত্বরে সুসজ্জিত প্যান্ডেলে বিশ্ব শান্তি পরিষদের মহাসচিব রমেশ চন্দ্র বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘জুলিও কুরি’ শান্তি পদক প্রদান করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *