প্রাচীনকালে ভয়ঙ্কর পাঁচ শাস্তি

প্রাচীনকালে ভয়ঙ্কর পাঁচ শাস্তি

ফিচার

নভেম্বর ২০, ২০২১ ১০:৫৪ পূর্বাহ্ণ

মধ্যযুগে এমন একটা সময় গেছে যখন অত্যাচারীর সংখ্যা ছিলো অনেক বেশি। তবে অত্যাচারও কম ছিলো না। সে সময় যে ভয়ানক এবং অভিনব শাস্তিগুলো অপরাধীদেরকে দেয়া হতো, তার নৃশংসতা সম্পর্কে আমরা হয়তো ধারণাও করতে পারবো না। সেক্ষেত্রে সেই শাস্তিগুলোর তুলনায় এখনকার শাস্তিগুলো তেমন মর্মান্তিক নয়। নিচে বর্ণিত তেমনি পাঁচ শাস্তি সম্পর্কে-

ড্রাম এবং স্ক্যাফিজম

ড্রাম এবং স্ক্যাফিজম

ড্রাম এবং স্ক্যাফিজম

এই নির্যাতন পদ্ধতি দুটির নাম, স্থান এবং সময়কাল আলাদা হলেও নির্যাতনের ধরন ছিল প্রায় একই রকম। ড্রাম বা ব্যারেল এর প্রচলন ছিল রোম সম্রাট ডোমিশিয়ান এর শাসনামলে আর স্ক্যাফিজম এর উৎপত্তি প্রাচীন পারস্যে। নানা রকম নির্যাতনের মধ্যে অন্যতম ছিল এই ধরনদুটি। অপরাধী বা বন্দি ব্যাক্তিকে একটি ড্রামের মধ্যে ভরে দিয়ে শুধু হাত-পা-মাথা বের করে রাখা হত, এরপর তাকে জোর করে খাওয়ানো হত দুধ-আর মধু। এত বেশি পরিমানে খাওয়ানো হত যে একপর্যায়ে অপরাধীর ডায়রিয়া শুরু হয়ে যেত, আর ডায়রিয়া করতে করতে ডায়রিয়ার মলদ্বারা ড্রামটি পরিপূর্ণ হয়ে যেত! ঐভাবেই তাকে ফেলে রাখা হত।

এছাড়াও শরীরের বের হয়ে থাকা অংশ গুলোতে দুধ আর মধু মাখিয়ে দেয়া হত, সেসব জায়গাগুলোতে পোকা-মাকড়ের সংক্রমন হয়ে মাংসে পচন ধরত। স্ক্যাফিজম পদ্ধতিটাও একই রকম শুধু এখানে ড্রাম এর বদলে গাছের গুড়ি অথবা দুটি কাঠের তৈরী নৌকার মাঝে আটকে রাখা হত! শরীরের নাজুক অংশগুলোতে মাখিয়ে দেয়া হত দুধ-মধু! পোকামাকড়েরা এসে শরীরের সেসব অংশ খেয়ে ফেলত। দীর্ঘদিন এভাবে থাকার পরে বন্দিদের শরীরের ভিতরেও পোকামাকড় বাসা বাধত, ধীর গতিতে এভাবে প্রায় ১০ থেকে ১৫ দিন তীব্র যন্ত্রনায় ভুগতে ভুগতে তাদের মৃত্যু হত!

শূলবিদ্ধ করা 

শূলবিদ্ধ করা 

শূলবিদ্ধ করা

এই পদ্ধতিতে অপরাধী বা বন্দিকে বিবস্ত্র করে একটি লম্বা সূক্ষ্ণ-সূঁচালো লোহার দন্ড তার মলদ্বার দিয়ে ঢুকিয়ে বসিয়ে দেয়া হত! এরপর অপেক্ষাকৃত নিচের দিকে মোটা দন্ডটি সোজা উপরের দিকে খাড়া করে দেয়া হত, এরফলে বন্দি তার নিজের দেহের ভারেই আস্তে আস্তে নিচের দিকে নামতে থাকত আর দন্ডের সূঁচালো মাথাটা তার গলা বুক অথবা মাথা ফুড়ে বের হয়ে আসত! এরপর মৃতদেহটি ওই অবস্থাতেই জনসম্মুখ্যে ২ থেকে ৩ দিন ঝুলিয়ে রাখা হত! বর্তমান রোমানিয়ার ভ্ল্যাদ-দি-ইম্পেলার ১৫তম শতাব্দীর শাসনামলে এই নিষ্ঠুরতম মৃত্যদন্ডাদেশ এর জন্য কুখ্যাত ছিলেন।

ফুটন্ত পানি

ফুটন্ত পানি

ফুটন্ত পানি

প্রাচীন চিনে এই পদ্ধতির প্রচলন শুরু হয়। পদ্ধতিটি ছিল ধীর এবং তীব্র যন্ত্রণাদায়ক যা হয়তো আমরা আমাদের কল্পনাতেও আনতে চাইবনা। এই পদ্ধতিতে প্রথমে একটি বড় পাত্রে তেল, মোম অথবা পানি গরম করা হত। এরপর বন্দী ব্যাক্তিকে একসাথে না ফেলে একটু একটু করে ওই ফুটতে থাকা পাত্রে ছাড়া হত! এভাবেই বন্দীর পুরো শরীরের মাংস সিদ্ধ অথবা ভাজা হয়ে যেত! চীন এই পাশবিক শাস্তির সূচনা করলেও জাপান, ফিজি এমনকি যুক্তরাজ্যেও ১৫০০ শতক পর্যন্ত এর প্রচলন ছিল। যদিও ইতিহাসের কিছু দলিল এ জাতীয় ভংকর মৃত্যুদন্ড পদ্ধতি অস্বীকার করে।

ইঁদুরের মরণ খেলা

ইঁদুরের মরণ খেলা

ইঁদুরের মরণ খেলা

ইতিহাসের আরেক ভয়াবহ নির্যাতন পদ্ধতির নাম ইঁদুরের খেলা। এই পদ্ধতিতে বালতি আকৃতির একটি পাত্র অথবা একটি খাচার ভিতরে কিছু ক্ষুধার্ত বড় বড় ইঁদুর ভরে দেয়া হত। এরপর খাচার খোলা মুখটি বেঁধে রাখা অপরাধীর পেটে উপুর করে বেঁধে দেয়া হত, যার ফলে পেট আর খাচার মধ্যে বন্দি হয়ে যেত ইঁদুর গুলো। বন্দি ক্ষুধার্ত ইঁদুর গুলো এক সময়ে অস্থির হয়ে ছুটোছুটি শুরু করে দিত আর বের হয়ে আসার চেষ্টা করত! এরপর জল্লাদেরা ইঁদুর এর অস্থিরতা আরো বাড়িয়ে দেয়ার জন্য কলড্রেন এর পিছনের দিকে আগুনের দিত, গরমের তাপে ইদুরদের ছটফট আরো বেড়ে যেত। এক পর্যায়ে ক্ষুধা আর গরমের তাপ সহ্য করতে না পেরে ইঁদুর গুলো অপরাধীর নরম পেট আর নাড়িভূড়ী ছিঁড়ে খাওয়া শুরু করত আর সামনের দিক দিয়ে বের হয়ে আসার চেষ্টা করত! এমন ভয়ংকর উপায় কাজে লাগিয়েই একটা সময়ে মৃত্যুদন্ডাদেশ কার্যকর করা হত!

ব্লাড ইগল

ব্লাড ইগল

ব্লাড ইগল

নর্ডিক উপাখ্যান গুলির মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্টতম অত্যাচার পদ্ধতি ছিল এই ব্লাড ইগল। এই পদ্ধতিতে অপরাধীকে বেঁধে পিছন থেকে ছুড়ি দিয়ে কেটে ফেলা হত, এরপর পিছনদিকের পাজরের হাড়গুলোকে টেনে বের করে দুইপাশে ছড়িয়ে দেয়া হত! দেখলে মনে হত ইগলপাখি পাখা মেলে আছে! শরীরের সেই ফাকা অংশ দিয়ে অপরাধীর ভিতরের অঙ্গ- প্রত্যঙ্গ দেখা যেত! গা শিউড়ে ওঠা এই পদ্ধতির এখানেই শেষ নয়, এরপর খুব সাবধানে অক্ষত অবস্থায় ভিতরের ফুসফুস আর লিভার বের করে আনা হত যাতে অপরাধী আরো কিছুক্ষন যন্ত্রনা নিয়ে বেচে থাকে, যন্ত্রনা আরো বাড়িয়ে দেয়ার জন্য সেখানে লবনও ছিটিয়ে দেয়া হত!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *