তীব্র লড়াইয়ের মধ্যেই শান্তি প্রতিষ্ঠায় আগ্রহ প্রকাশ তালেবানদের

তীব্র লড়াইয়ের মধ্যেই শান্তি প্রতিষ্ঠায় আগ্রহ প্রকাশ তালেবানদের

আন্তর্জাতিক স্লাইড

জুলাই ২০, ২০২১ ১১:১০ পূর্বাহ্ণ

আফগানিস্তানের তালেবানরা পবিত্র ঈদ উল আযহা উপলক্ষে দেয়া বাণীতে আলোচনার মাধ্যমে সেদেশে শান্তি প্রতিষ্ঠায় তাদের আগ্রহের কথা জানিয়েছে।

তালেবান মুখপাত্র মোল্লা হেইবাতুল্লাহ তার বাণীতে আরো বলেছেন, দুঃখজনকভাবে আফগান সরকার শান্তি প্রতিষ্ঠার সুযোগকে হাতছাড়া করছে। তাদের উচিত বিদেশিদের ওপর থেকে নির্ভরতা বাদ দিয়ে এমন পদক্ষেপ নেয়া যাতে আমরা নিজেরাই নিজেদের সমস্যার সমাধান করতে পারি এবং বর্তমান অচলাবস্থা থেকে দেশকে মুক্ত করতে পারি। তিনি আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে আরো বলেছেন, শান্তি প্রতিষ্ঠার যে কোনো সুযোগকে তালেবানরা কাজে লাগাবে। শান্তি আলোচনায় অগ্রগতি হওয়ার কথা উল্লেখ করে এই তালেবান নেতা আরো বলেছেন, আলোচনাকে এগিয়ে নেয়ার  স্বার্থেই আমরা কাতারে আমাদের রাজনৈতিক দফতর খুলেছি এবং একটি আলোচক দলকে সেখানে রাখা হয়েছে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, তালেবানরা এমন সময় আলোচনার মাধ্যমে বিরাজমান সমস্যা সমাধানের কথা বলছে যখন আফগানিস্তানে লড়াইয়ের ময়দানে তারা অনেক দূর এগিয়ে গেছে এবং বহু শহর তারা দখল করে নিয়েছে। এ থেকে বোঝা যায় বিদেশি সেনারা চলে যাওয়ার পর আফগানিস্তানের ব্যাপারে তালেবানের নীতিতে বিরাট পরিবর্তন এসেছে। অথচ গত বছর কাতারের রাজধানী দোহায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি চুক্তি সইয়ের পর তালেবানরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল মার্কিন ও ন্যাটো সেনারা আফগানিস্তান ত্যাগ করলে তারাও সহিংসতার মাত্রা কমিয়ে আনবে এবং আফগান সরকারের সঙ্গে সমঝোতায় আসবে ও শান্তি প্রতিষ্ঠা করবে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে চুক্তি অনুযায়ী মার্কিন সেনারা আফগানিস্তান ত্যাগ করলেও তালেবানরা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে হামলা জোরদার করেছে এবং এ পর্যন্ত দেশটির বহু শহর তারা দখল করেছে।

বর্তমানে আফগানিস্তানের বহু এলাকা তালেবানের দখলে রয়েছে। এ অবস্থায় তালেবান মুখপাত্র মোল্লা হেইবাতুল্লাহ শান্তি আলোচনার মাধ্যমে বিরাজমান সমস্যা সমাধানের যে কথা বলেছেন তাতে অনেকটা আশার সঞ্চার হয়েছে। এমনকি যুদ্ধ অবসানের সম্ভাবনাও দেখা দিয়েছে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, তালেবান  মুখপাত্রের এই বক্তব্যের একইসঙ্গে কাতারে শুরু হওয়া আফগান সরকার ও তালেবানের মধ্যকার শান্তি আলোচনাও শুরু হয়েছে। তাই তালেবানরা তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষায় কতটুকু আন্তরিক হবে সেটাই এখন প্রমাণিত হবে। তালেবান ও সরকার দুপক্ষের মধ্যেই এখন এ আশার সঞ্চার হয়েছে যে বিদেশি সেনারা আফগানিস্তান ত্যাগের একই সময়ে সেদেশে সহিংসতা ও নিরাপত্তাহীনতার অবসান ঘটবে।

গত কয়েক বছর ধরে তালেবানরা যুদ্ধ অবসান ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়তার জন্য সেদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো বাহিনীর চলে যাওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিল। তাই তাদেরকেই এখন প্রমাণ করতে হবে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বিদেশি সেনারা আফগানিস্তান থেকে চলে যাওয়ার পর তাদেরকেও যুদ্ধ ও সহিংসতা থেকে দূরে থাকতে হবে।

যাইহোক, বর্তমানে বিদেশি  সেনারা চলে যাওয়ায় আফগান সরকারের সঙ্গে শান্তি আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে তালেবানের সামনে আর কোনো অজুহাত নেই বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *