ডার্ক চকলেট যেসব জটিল রোগের অব্যর্থ দাওয়াই

ডার্ক চকলেট যেসব জটিল রোগের অব্যর্থ দাওয়াই

স্বাস্থ্য

মে ২০, ২০২১ ১:৩৫ অপরাহ্ণ

স্বাস্থ্য ডেস্ক: চকলেট কেবল ছোটদেরই পছন্দের খাবার নয়, বড়রাও আছেন এই দলে। যদিও অনেকের ধারণা চকলেট স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। আবার চকলেট মানেই দাঁতের ক্ষতি। আসলে ধারণাটি ভুল। চকলেটও স্বাস্থ্যকর। তবে এক গাদা চিনি মেশানো চকলেট নয়, ঘন কালচে রঙা ডার্ক চকলেট শরীরের জন্যে যথেষ্ট উপকারী।

নানা খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টে সমৃদ্ধ ডার্ক চকলেট রক্তচাপ কমিয়ে হার্ট ভালো রাখার পাশাপাশি আপনার মনও ভালো রাখে এবং অবসাদ কমাতে সাহায্য করে। আর এ সবই গবেষণায় প্রমাণিত।

পুষ্টিবিদরা সপ্তাহে অন্তত তিনদিন ডার্ক চকলেট খেতে পরামর্শ দেন, জানালেন ইন্দ্রাণী ঘোষ নামে ভারতের এক পুষ্টিবিদ। অবসাদ প্রতিরোধে চকলেটের কোনো জুড়ি নেই। ভিটামিন বি-১২, রাইভোফ্ল্যাভিন, ম্যাঙ্গানিজ, ফসফরাস, জিঙ্ক, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, আয়রন ইত্যাদি পুষ্টিগুণে ভরপুর ডার্ক চকলেট মন ভালো রাখার সঙ্গে সঙ্গে হার্ট ভালো রাখে, ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

শুধু ছোটদের জন্যই নয়, বড়দের জন্যেও চকলেট উপকারী। তবে মাত্রাতিরিক্ত খেলে ওজন বাড়বে সে কথা ভুললে কিন্তু চলবে না। যাদের অ্যালার্জি আছে, তারা কিন্তু চকলেট থেকে একশ হাত দূরেই থাকবেন।

পুষ্টিবিদ ইন্দ্রাণী জানালেন, চকলেটে আছে ফ্ল্যাভানলস ও পলিফেনলস, যা শরীরের অক্সিডেশন ড্যামেজ কমিয়ে শরীর সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে শরীরে নানা সমস্যা দেখা যেতে পারে। যেমন- ডায়াবিটিস, হার্টের অসুখ, পার্কিনসনস ডিজিজ, অ্যালজাইমারস ডিজিজ, চোখের সমস্যা, এমনকি ক্যান্সার পর্যন্তও। ডার্ক চকলেট অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে। তাই এসব রোগকে অনেকাংশে ঠেকিয়ে রাখা যায়।

২০১৫ সালের এক গবেষণা বলছে- ৮ সপ্তাহ ধরে দৈনিক ২৫ গ্রাম ডার্ক চকলেট (চিনি ছাড়া) খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আসে। ডার্ক চকলেটে থাকা পলিফেনল ও থিওব্রোমিন নামক যৌগ রক্তের লো-ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন অর্থাৎ এলডিএল নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি এইচডিএল অর্থাৎ ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে হার্ট ভালো রাখতে সাহায্য করে বলে জানালেন ইন্দ্রাণী।

এই স্বাদু খাবারটির আর এক গুণ শরীরের ইনফ্ল্যামেশন বা প্রদাহকে নিয়ন্ত্রণে রাখা। এর ফলে আর্থ্রাইটিস, টাইপ টু ডায়াবিটিস ও কিছু ক্যান্সারে ঝুঁকি কমে।

ইন্দ্রাণী ঘোষ জানালেন- এক সমীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে যে, ডার্ক চকলেটে থাকা ফ্ল্যাভ্যোনলস নিউরোডিজেনারেটিভ পদ্ধতির গতি কমিয়ে দিয়ে অ্যালজাইমার্স ও পার্কিনসন্স অসুখ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। ছোটদের সঙ্গে সঙ্গে বড়রাও চিনি ছাড়া এক টুকরো ডার্ক চকলেট চেখে দেখতেই পারেন সপ্তাহে তিন দিন।

সূত্র: জিনিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *