জোট-ফ্রন্ট ছাড়ার চূড়ান্ত পরিকল্পনা বিএনপির

জোট-ফ্রন্ট ছাড়ার চূড়ান্ত পরিকল্পনা বিএনপির

রাজনীতি স্লাইড

অক্টোবর ৬, ২০২১ ১২:১৬ অপরাহ্ণ

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে চোখে সরষে ফুল দেখছে বিএনপির শীর্ষ নেতারা। নানা সমস্যায় জর্জরিত দলের কোনো পরিকল্পনাই যেন আলোর মুখ দেখছে না। এ পরিস্থিতিতে জোট-ফ্রন্ট ছাড়াই সামনে চলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি।

জানা গেছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে করণীয় নির্ধারণে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পৃথকভাবে সংলাপ করার চিন্তাভাবনাও রয়েছে। ৮ ও ৯ অক্টোবর পেশাজীবীদের সঙ্গে বৈঠকের পর রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার দিনক্ষণ নির্ধারণ করবে বিএনপি।

সম্প্রতি দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন বিএনপির হাইকমান্ড। বৈঠকে নেতাদের মতামত নিয়ে একটি সারসংক্ষেপও তৈরি করা হয়। বৈঠকে অধিকাংশ নেতাই জোট-ফ্রন্ট বাদ দিয়ে একলা চলার পক্ষে মত দেন। একই সঙ্গে তারা যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার পরামর্শ দেন।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এখন পুরোপুরি নিষ্ক্রিয়। ফ্রন্টকে আর টেনে তুলতে কেউই এগিয়ে আসছেন না। বিএনপিও আর ফ্রন্টগত কোনো ঐক্য চায় না। এ প্রেক্ষাপটেই শনিবার স্থায়ী কমিটির বৈঠকে নেতাদের মতামত নিয়ে আলোচনা হয়। স্থায়ী কমিটির সবাই জোট ও ফ্রন্ট ছাড়াই পথচলার ব্যাপারে একমত হন।

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের আগে বিএনপি, গণফোরাম, নাগরিক ঐক্য, জেএসডি ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ মিলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হয়। নির্বাচনের পর এ জোটের শরিকদের মধ্যে প্রথমে মনোমালিন্য এবং পরে বিভক্তি দেখা দেয়। জোট থেকে বেরিয়ে যায় বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর দল কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ। ভাঙনে পড়ে আ স ম আবদুর রবের জেএসডি ও ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরাম। আ স ম রবের নেতৃত্বে জেএসডি এখন বিএনপির সঙ্গে থাকলেও আবদুল মালেক রতনের নেতৃত্বে জেএসডি আলাদা হাঁটছে। গণফোরামে টানাপোড়েন এখনো কাটেনি। বিভক্তির কারণে সম্মেলন না হওয়ায় দলটির এখনো কেন্দ্রীয় কমিটি করা যায়নি। দলের কার্যক্রম স্থবিরপ্রায়।

এ প্রসঙ্গে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে এখন অকার্যকর বলাই যায়। কারণ একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপির সঙ্গে ঐক্যফ্রন্টের কোনো বৈঠক হয়নি। বিএনপির ধারাবাহিক বৈঠকে নেতারা ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে বিশেষ করে ড. কামালকে নিয়ে অস্বস্তির কথা জানিয়েছেন। এখন এটাকে আর সে অর্থে ঐক্যফ্রন্ট বলা যাবে কি-না বুঝতে পারছি না।

এদিকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট এখন অস্তিত্বহীন হয়ে পড়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এ জোট এখন অনেকটাই ‘কাগুজে’। জোটের অন্য শরিক দলগুলোও হতাশ। সবাই যার যার মতোই পথ চলছে। আবার কেউ কেউ জোটও ত্যাগ করছে। সর্বশেষ শুক্রবার সপ্তম দল হিসেবে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট ত্যাগ করে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল খেলাফত মজলিস।

২০ দলের অস্তিত্ব আছে কি-না জানতে চাইলে বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক বলেন, একাদশ জাতীয় নির্বাচনের পর জোটের কোনো কার্যক্রম নেই। তাই এর কোনো অস্তিত্বও নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *