জলবায়ু প্রশমনে দেশের উপকূলে বেড়িবাঁধ দরকার: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

জলবায়ু প্রশমনে দেশের উপকূলে বেড়িবাঁধ দরকার: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় স্লাইড

জুন ৬, ২০২১ ৯:৫১ পূর্বাহ্ণ

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে জনগণকে জলবায়ু অভিবাসী হওয়ার হাত থেকে বাঁচাতে ‘জলবায়ু প্রশমনের’ অংশ হিসেবে উপকূলীয় অঞ্চলে পুনর্বিকীরণযোগ্য জ্বালানি সুবিধা সম্বলিত বাঁধ নির্মাণ করা দরকার বাংলাদেশের।

তিনি বলেন, আমাদের জনগণকে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও নদীর ভাঙন থেকে ডুবে যাওয়া এবং জলবায়ু অভিবাসী হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে টিকে থাকার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে উঁচু প্রশস্ত বাঁধ তৈরি করতে হবে।

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আর্থ সোসাইটি নামে স্থানীয় একটি বেসরকারি সংস্থা আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘ক্লাইমেট ক্যাম্প-২০২১‘ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ড. মোমেন বলেন, এই বাঁধগুলোর চারপাশে ম্যানগ্রোভের বনাঞ্চল ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় উভয় ধাক্কা সামলানোর ক্ষেত্র হিসেবে এবং কার্বন সংকুচিত করতে কাজ করবে।

তিনি বলেন, আমরা বেড়িবাঁধের জায়গাটি নিকটবর্তী গ্রিড অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে ও জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের জন্য সৌর প্যানেল এবং বায়ু টারবাইন স্থাপনের জন্য ব্যবহার করতে পারি।

এছাড়াও তিনি বলেন, উপকূলীয় বেড়িবাঁধে একটি মনোরম নান্দনিক সড়ক হবে, যা পর্যটনের জন্য ওখানে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে।

বাংলাদেশে ব্রিটিশ হাই কমিশনার রবার্ট চ্যাটারটন ডিকসন, জলবায়ু সংসদ বাংলাদেশের আহ্বায়ক নাহিম রাজ্জাক, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির সিভিএফ বিশেষ দূত আবুল কালাম আজাদ, ইউএনডিপি আবাসিক প্রতিনিধি সুদীপ্তো মুখার্জি এবং কান্ট্রি লিড ইউরোপীয় ক্লাইমেট ফাউন্ডেশন (ইসিএফ) মনোয়ার মোস্তফা উদ্বোধনী অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন।

ইউএন ডিকেড অন ইকোসিস্টেম রেস্টোরেশন ২০২১-২০৩০ চালু হওয়ার পর ‘ক্লাইমেট ক্যাম্প‘ বাংলাদেশের তরুণদের একত্রিত করে হ্যাশট্যাগ #জেনারেশনরেস্টোরেশন হিসেবে জাতিসংঘের লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রকৃতির সঙ্গে তাদের সম্পর্ক পুনরায় স্থাপনের বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে একত্রিত করেছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জলবায়ু চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বাংলাদেশ সরকার যথাসাধ্য চেষ্টার কথা উল্লেখ করে বলেন, জাতীয় সংসদ এটিকে ‘প্ল্যানেটারি ইমার্জেন্সি‘ হিসেবে ঘোষণা করেছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে যুবসমাজ এবং সুশীল সমাজের অংশগ্রহণ বাংলাদেশের পক্ষে টেকসই সমাধানের পক্ষে সর্বোত্তম ফল আনতে পারে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু এলাকায় যৌথ দায়িত্ব ও সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে টেকসই, সমৃদ্ধ ও স্থিতিশীল ভবিষ্যতের জন্য আমাদের আরও ভালোভাবে গড়ে তোলার সুযোগ নিতে হবে।

সূত্র: বাসস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *