জরিমানা যেন আশীর্বাদ জ্যাক মার কাছে

জরিমানা যেন আশীর্বাদ জ্যাক মার কাছে

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

এপ্রিল ১৪, ২০২১ ২:৩৪ অপরাহ্ণ

কদিন আগেই চীনের বাজারে একচ্ছত্র আধিপত্যের জন্য জরিমানা করা হয় বৃহত্তম ই-কমার্স জায়ান্ট আলিবাবাকে। এ জরিমানা করে চীনের নীতিনির্ধারকরা। সাথে সাথেই কমে যায় আলিবাবার শেয়ারের দর। এরপর তো লোকসানের পরিবর্তে কপাল খুলে গেল আলিবাবার প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক মার।

অনলাইন জায়ান্ট আলিবাবাকে জরিমানা করা হয়েছিল ২৮০ কোটি ডলার। এরপর তার মোট সম্পদের পরিমাণ বেড়ে গেল ২৩০ কোটি ডলার। বর্তমানে তার মোট সম্পদের পরিমাণ ৫ হাজার ২১০ কোটি ডলার। তিনি বিশ্বের ২৫তম শীর্ষ ধনী। চীনে তিনি ধনী ব্যক্তিদের তালিকায় তৃতীয় স্থান দখলে নিয়ে আছেন।

জরিমানার খবরে কিছুটা কমলেও এ খবরের পর আবারও বেড়েছে আলিবাবার শেয়ারের দর। সোমবার (১২ এপ্রিল) হংকংয়ে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দর ৬ শতাংশ বেড়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে বেড়েছে ৯ শতাংশ। চলতি সপ্তাহেই চীনের নীতি নির্ধারকরা আলিবাবাকে চীনের বাজারে একচ্ছত্র আধিপত্যের জন্য মোটা অঙ্কের জরিমানা করে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা। যদিও এ জরিমানা ২০১৯ সালে আলিবাবার মোট আয়ের ৪ শতাংশ। আলিবাবাও জরিমানা দিতে সম্মত হয়েছেন।

বেশ কদিন ধরেই চীনা সরকারের খড়গের মুখে আলিবাবা। আলিবাবার বিরুদ্ধে অভিযোগটাই বাজারে একচ্ছত্র আধিপত্যের। চীনের নিয়ন্ত্রকেরা বলছেন, অনলাইন জায়ান্ট বেশ কয়েক বছর ধরে তার প্রভাবশালী বাজার অবস্থানকে অপব্যবহার করেছে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, এর মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে, চীন ইন্টারনেট প্ল্যাটফর্মগুলোর বিরুদ্ধে যেতে চায়, যা একচেটিয়াভাবে বেড়ে উঠেছে। আলিবাবাকে বলা হয় চীনের আমাজন। চীনের ভেতরে এটি জায়ান্ট কোম্পানি। খুচরা বিক্রি এর মূল কার্যক্রম হলেও এটি ডিজিটাল পেমেন্ট নিয়ে, ক্রেডিট ও ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের সঙ্গে যুক্ত।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা বলছে, অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম থামিয়ে আলিবাবা প্রতিযোগিতা সীমাবদ্ধ করে দিচ্ছে।
চীনের আর্থসামাজিক ব্যবস্থা পুরোপুরি রাষ্ট্রীয় পুঁজিবাদ। পুঁজিতন্ত্রের ভেতর বড় আয়তনে একচেটিয়া ব্যবসা তৈরি হতে দিতে চায় না সরকার। আলিবাবা এবং আরও একটি প্রতিষ্ঠান মিলে চীনের ই-কমার্সের প্রায় পুরোটাই দখল করে নিয়েছে।

এ অবস্থা চলতে থাকলে অন্য ছোট ছোট সংস্থার বিকাশ কঠিন হয়ে পড়বে। চীনের লক্ষ্য, একচেটিয়া পুঁজিবাদ ঠেকানো। কারণ জ্যাক মার বিরুদ্ধে এ পদক্ষেপে শঙ্কিত দেশের অন্য টেক জায়ান্টরাও।

নিয়ন্ত্রকদের ক্রমবর্ধমান চাপের মধ্যে রয়েছেন তারাও। একচেটিয়া ব্যবসার কারণে গত মাসে ১২ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছিল। সংস্থাগুলোর মধ্যে আছে টেনসেন্ট, বাইদু, সফটব্যাংক ও একটি বাইটড্যান্স।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *