চীন কেন নকল চাঁদ বানালো?

চীন কেন নকল চাঁদ বানালো?

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

জানুয়ারি ১৯, ২০২২ ১০:৫৪ পূর্বাহ্ণ

মহাকাশে লুকিয়ে আছে সৃষ্টির রহস্য! ফলে সূর্য-চাঁদ-তারা নিয়ে কৌতূহলের শেষ নেই মানুষের। মহাকাশ বিজ্ঞানীরা দিন-রাত এক করে নতুন নতুন গবষণায় ব্যস্ত। যেমন, চীনের মহাকাশ বিজ্ঞানীরা চার বছর আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন, তারা কৃত্রিম চাঁদ তৈরির প্রকল্পে হাত দিয়েছেন। সেই চাঁদ মহাকাশে স্থাপন করা হবে। যা অমাবস্যাতেও আলোকিত করবে পৃথিবীকে। এবার সেই চীনের বিজ্ঞানীরাই জানালেন, তারা পৃথিবীর বুকে হুবহু চাঁদের পরিবেশ তৈরি করছেন!

কল্পনাকে সত্যি করে কৃত্রিম চাঁদ বানিয়েছে চীন। জিয়াংশু প্রদেশের পূর্ব দিকে, শুঝাউ শহরে। ভূপৃষ্ঠের এই চীনা চাঁদে একেবারেই উঠে যাবে পার্থিব মাধ্যাকর্ষণের মায়ার টান। নীলাভ গ্রহেই ভরশূন্য অবস্থায় ভেসে থাকা যাবে যতক্ষণ ইচ্ছে!

‘সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট’ জানিয়েছে, এই অসাধ্যসাধন সম্ভব হয়েছে প্রকল্পের কর্ণধার, ‘চায়না ইউনিভার্সিটি অব মাইনিং অ্যান্ড টেকনোলজি’-র অধ্যাপক লি রুইলিনের জন্য। বিজ্ঞানীদের বক্তব্য, নকল চন্দ্রপৃষ্ঠ হবে হুবহু আসল চাঁদের মতোই। চাঁদের মাটিতে যতটুকু অভিকর্ষ থাকে, ততটুকুই থাকবে সেখানে। অর্থাৎ, সেখানে পৌঁছলে মানুষ ভাবতে বাধ্য হবে, সে মহাকাশ যাত্রা করে দূর আকাশের চাঁদেই পৌঁছে গেছে।

তবে, নকল চাঁদ মোটেও সাধারণের বিনোদনের জন্য তৈরি কোনো ট্যুরিস্ট স্পট নয়। এভাবে পৃথিবীর মাটিতে চাঁদের পরিবেশ তৈরি করার ভাবনা শুধুমাত্র মহাকাশ বিজ্ঞানীদের গবেষণাকে গতি দেওয়ার জন্যে। জানা গেছে, এরপর থেকে চীনের চন্দ্র অভিযান প্রকল্পের মহাকাশচারীদের এই নকল চাঁদের দেশেই প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

অধ্যাপক লি রুইলিন বলেছেন, এর ফলে চাঁদের কোথায় নেমে দীর্ঘ দিন থাকতে পারবেন মহাকাশচারীরা, গবেষণা ও অন্যান্য কাজে, তা পৃথিবী থেকেই বুঝে ফেলা সম্ভব হবে। উপগ্রহ, ল্যান্ডার, রোভার পাঠিয়ে আর চাঁদের ‘মন’ বোঝার চেষ্টায় ঘাম ঝরাতে হবে না।

খুব সামান্য মাধ্যাকর্ষণের অভিজ্ঞতা বিমানেও হয়, হয় ড্রপ টাওয়ারেও। কিন্তু তা খুবই অল্প সময়ের জন্য। চীনের বানানো চাঁদে ভরশূন্য অবস্থায় থাকা যাবে যতক্ষণ ইচ্ছে। তবে এটাও মনে রাখতে হবে, চাঁদে খুব সামান্য হলেও আছে মাধ্যাকর্ষণের টান। পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণের ছয় ভাগের মাত্র এক ভাগ। যাকে ভরশূন্য অবস্থাই বলা যায়।

চীনের বানানো কৃত্রিম চাঁদের ব্যাস অবশ্য আদত চাঁদের মতো নয়। অনেকটাই কম। তবে এর পিঠ ভরিয়ে দেওয়া থাকবে আদত চাঁদের পাথর আর ধুলোবালি দিয়ে। যার ভার নেই বললেই হয়। এতটাই হালকা।

বেজিং ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে, আগামী দশকে চাঁদে মহাকাশচারী পাঠাবে চিন। চাঁদের কক্ষপথে পাঠানো হবে স্থায়ী মহাকাশ স্টেশন। যেখান থেকে প্রয়োজনে চাঁদে নামতে পারবেন নভোচারীরা। এ ছাড়াও পৃথিবীর কক্ষপথে আলাদাভাবে একটি মহাকাশ স্টেশন এরই মধ্যে বানিয়ে ফেলেছে‌ তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.