চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার স্থানান্তর হচ্ছে আইসিডিতে

চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার স্থানান্তর হচ্ছে আইসিডিতে

অর্থনীতি

জুলাই ২৫, ২০২১ ৮:০৭ অপরাহ্ণ

সরকারঘোষিত দেশব্যাপী চলমান লকডাউনে বন্ধ রয়েছে দেশের বেশিরভাগ শিল্পকারখানা। এতে করে চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানিকৃত কনটেইনার খালাস প্রক্রিয়া আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে। ফলে বন্দরে বাড়তে থাকে কনটেইনারের সংখ্যা। সম্ভাব্য জট নিরসনে নানামুখী তৎপরতা শুরু করে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনকে দ্রুত পণ্য খালাসের জন্য চাপ দেয়ার পাশাপাশি বিকল্প ব্যবস্থার জন্য সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশনা চাওয়া হয়।

অবশেষে রোববার (২৫ জুলাই) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড একটি অফিস আদেশে চট্টগ্রাম বন্দরে জমে থাকা কনটেইনার অভ্যন্তরীণ ১৯টি ডিপোতে (আইসিডি) স্থানান্তরের অনুমতি প্রদান করে। আদেশটি আগামী ৩১ আগস্টের পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে বলে জানানো হয়।

রাজস্ব বোর্ডের দ্বিতীয় সচিব (কাস্টমস নীতি) মেহরাজ-উল-আলম সম্রাট স্বাক্ষরিত ওই অফিস আদেশে বলা হয়, কোডিড-১৯ পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম বন্দরে সৃষ্ট কনটেইনার জট নিরসনের লক্ষ্যে নৌ-পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের পত্রের সুপারিশের আলোকে চট্টগ্রাম বন্দরে আগত সব ধরনের পণ্যচালান সংশ্লিষ্ট কনটেইনার দুটি শর্তসাপেক্ষে চট্টগ্রামে অবস্থিত ১৯ টি অফডকে (প্রাইভেট আইসিডি) সংরক্ষণ ও আনস্টাকিং করার এবং উক্ত অফডকসমূহ থেকে খালাস প্রদানের অনুমতি প্রদান করা হলো।

শর্তগুলো হচ্ছে-
১. অফডকসমূহে স্থানান্তরের সময় শতভাগ কনটেইনার আবশ্যিকভাবে স্ক্যানিং করতে হবে এবং স্ক্যানিংয়ের রিপোর্ট যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে।

২. অফডকে স্থানান্তরিত সব কমার্শিয়াল পণ্যচালান আবশ্যিকভাবে চট্টগ্রাম কাস্টম এবং শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের প্রতিনিধির সমন্বয়ে যৌথভাবে শততাগ কায়িক পরীক্ষা করে প্রাপ্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, লকডাউনে জাহাজ থেকে আমদানিকৃত পণ্য খালাস প্রক্রিয়া ২৪ ঘণ্টাই চালু আছে। বিপরীতে আমদানিকারকেরা স্বাভাবিকের চার ভাগের একভাগের মতো কনটেইনার খালাস করছেন। বন্দর থেকে ২২ জুলাই ঈদের দিন ১২৮ টিইইউস (২০ ফুট দৈর্ঘ্যের কন্টেইনার), ২৩ জুলাই ৫৮২ টিইইউস, ২৪ জুলাই এক হাজার ১০ টিইইউস এবং ২৫ জুলাই সর্বশেষ পাওয়া খবরে এক হাজার ৯০০ টিইইউস কনটেইনার খালাস হয়েছে। অর্থাৎ চার দিনে মিলে বন্দর থেকে কনটেইনার খালাস হয়েছে তিন হাজার ৬২০ টিইইউস কনটেইনার। অথচ স্বাভাবিক সময়ে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে একদিনে গড়ে সাড়ে তিন হাজার টিইইউস কনটেইনার খালাস করে থাকেন আমদানিকারকেরা।

ফলে বন্দরের ভেতরে কনটেইনার জমতে থাকে। ২৫ জুলাই পর্যন্ত বন্দরে কনটেইনার জমা পড়েছে ৪৩ হাজার ৫৭৪ টিইইউস। যদিও বন্দরের ধারণক্ষমতা ৪৯ হাজার টিইইউস। তবে বন্দরের অপারেশনাল কাজে ৩০ শতাংশ জায়গা খালি রাখতে হয়।

বন্দরের কনটেইনার খালাসের ধীরগতি ও সম্ভাব্য জট নিরসনে নানামুখী তৎপরতা শুরু করে কর্তৃপক্ষ। গতকাল (শনিবার) নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে একটি চিঠি দেন বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহান। একই দিনে চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব ওমর ফারুক স্বাক্ষরিত একটি চিঠি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ, বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ফ্রেট ফরোয়ার্ডস অ্যাসোসিয়েশন, বিকেএমইএ ও চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্সে পাঠানো হয়।

ওই চিঠিতে বলা হয়, ঈদুল আজহা এবং কঠোর লকডাউনেও চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয় অর্থনীতির কথা চিন্তা করে ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখা হয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, বন্দর থেকে পণ্য খালাস হচ্ছে না। ব্যবসায়ী কিংবা বন্দর ব্যবহারকারীদের কোনো উদ্যোগও দেখা যাচ্ছে না। এতে বন্দরে কনটেইনার বাড়তে শুরু করেছে।

এসব দিক বিবেচনা করে যত দ্রুত সম্ভব কনটেইনার ও পণ্য খালাস করার আহ্বান জানান বন্দর সচিব। অন্যথায় কনটেইনার বা পণ্যের ওপর জরিমানা আদায় করা হবে বলেও সতর্ক করা হয়।

এরই মধ্যে আজ (রোববার) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চিঠিতে বন্দরে স্তুপ হওয়া কনটেইনার বেসরকারি ডিপোগুলোতে স্থানান্তরের আদেশ দেয়া হয়।

চট্টগ্রাম বন্দর সচিব ওমর ফারুক বলেন, ‘বন্দরে প্রতিদিন জাহাজ থেকে পণ্যবাহী কনটেইনার খালাস হচ্ছে। বিপরীতে আমদানিকারকেরা কনটেইনার কম খালাস করায় বন্দরে কিছুটা জট তৈরি হয়েছিল। তবে অচলাবস্থা তৈরি হওয়ার আগেই গতকাল (শনিবার) বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনকে দ্রুত পণ্য খালাস করতে চিঠি পাঠানো হয়েছিল। একই দিন স্তুপ হওয়া কনটেইনার বেসরকারি ডিপোগুলোতে স্থানান্তরের অনুমতি চাওয়া হয় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ (রোববার) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কনটেইনার বেসরকারি ডিপোগুলোতে স্থানান্তরের অনুমতি প্রদান করে। এতে করে বন্দরের কনটেইনার জট নিরসন হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।’

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সহ-সভাপতি রাকিবুল আলম চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের কারখানা বন্ধ। কনটেইনার খালাস করে আমরা কোথায় রাখব? অন্যদিকে লকডাউনে কারখানা বন্ধ থাকায় আমাদের অনেক ক্রয়াদেশ বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আমরা সরকারের কাছে দ্রুত কারখানা খুলে দেয়ার দাবি জানাচ্ছি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *