খালেদা জিয়ার চিকিৎসার দাবি নিয়েও ফখরুল-রিজভীর দ্বন্দ্ব!

রাজনীতি স্লাইড

নভেম্বর ১৯, ২০২১ ১:৩৩ অপরাহ্ণ

বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার দাবি নিয়ে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছে।

বিএনপির চেয়ারপার্সনের মিডিয়া উইং ও নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের দফতর বিভাগ সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার দাবির বিষয়টি নিয়ে ফখরুল-রিজভীর প্রকট দ্বন্দ্বের বহিঃপ্রকাশ ঘটছে। খালেদা জিয়ার চিকিৎসার মতো জরুরি বিষয়েও এ দুই গুরুত্বপূর্ণ নেতার প্রকাশ্য দ্বন্দ্বে দলটির ভেতরের করুণ অবস্থা উঠে এসেছে।

জানা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল পৌনে ৪টায়  গুলশানে চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটি ও কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে সংবাদ সম্মেলন করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে সুচিকিৎসার দাবিতে কর্মসূচিও ডেকেছে বিএনপি। স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, ব্যারিস্টার শাজাহান উমর, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আবদুস সালামসহ দলের আরো নেতারা সংবাদ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।

অন্যদিকে প্রায় একই সময়ে বিকেলে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে একা নিজের কক্ষে বসে একই কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

বিষয়টি নিয়ে দলের স্থায়ী কমিটির অন্যতম এক সদস্য বলেন, গুলশানে চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে দলের মহাসচিব ম্যাডামের মুক্তি ও বিদেশে উন্নত চিকিৎসার দাবিতে কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। আমরা স্থায়ী কমিটি ও দলের অন্যান্য নেতারা সেখানে ছিলাম। এর বাইরে একই বিষয়ে কারও কথা বলা তো ঠিক না।

তবে এ বিষয়ে রিজভীর এক ঘনিষ্ঠজন বলেন, এসি রুমে বসে উনারা কর্মসূচি ঘোষণা করেন। কিন্তু ম্যাডামকে বিদেশে চিকিৎসার পথে বাধা সুবিধাবাদী নেতারা। তারা কখনো ঝুঁকি নিয়ে ম্যাডামের পাশে দাঁড়াননি। সুতরাং তাদের সঙ্গে রিজভী সাহেব কখনো পাশে বসবেন না। তার মত করে তিনি আলাদা কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।

এসময় বিএনপিকে সুবিধাবাদীদের হাত থেকে রক্ষার জন্যই তার একলা পথচলা বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বুদ্ধিজীবীরা বলেন, বিএনপি এখন রাজনীতি শূন্য দল। এ দলের মধ্যে নেতৃত্বের সংকটের কারণে চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়েছে। যার ফলে সকলেই নিজেদের প্রধান ভাবেন। এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে অচিরেই বিএনপি বিলীন হয়ে যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *