ক্যান্ডিতে ব্যতিক্রম কেবল তামিম-তাসকিন

ক্যান্ডিতে ব্যতিক্রম কেবল তামিম-তাসকিন

খেলা স্লাইড

মে ২, ২০২১ ৯:৩৯ পূর্বাহ্ণ

ক্যান্ডিতে ধুঁকছে বাংলাদেশ। আশার খবর নেই ব্যাটিংয়ে। বোলিংয়েও ছিল হাপিত্যেশ। তবে হতাশার মধ্যেও ব্যতিক্রম ছিলেন তাসকিন-তামিম। টেস্টে ৫ উইকেট না পেলেও তাসকিন করেছেন ক্যারিয়ার সেরা বোলিং। আর ব্যাটিংয়ে প্রথম টেস্টে ৯০ ও ৭৪ রানের পর দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে তামিম কাঁটা পরেন ৯২ করে। ফলে ১৩ ইনিংস ধরে সেঞ্চুরি না পাওয়ার আপেক্ষ হলো আরও দীর্ঘ।

হারারে থেকে ক্যান্ডি। মধ্যখানে দূরত্বের হিসেবে ৬ হাজার ১১৩ কিলোমিটার। সময়ের হিসেবে ৮ বছরের প্রতীক্ষা। যে অপেক্ষার অবসান হওয়ার কথা ছিল স্পিড স্টার তাসকিনের হাত ধরে। কিন্তু শান্তদের গা জ্বালানো সব ক্যাচ মিসে, সে প্রহর হলো দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর।

পরিশ্রমী ক্রিকেটার হিসেবে বরাবরই তাসকিনের জুড়ি নেই। ক্যান্ডিতে দুই টেস্টে নিয়মিত বল ছুড়েছেন ১৪০ গতির ওপরে। উইকেটে জমে যাওয়া লঙ্কান ব্যাটসম্যানদের ভুগিয়েছেন বাউন্স আর গতির বৈচিত্রে। করেছেন সাদা পোষাকে ক্যারিয়ার সেরা বোলিং। কিন্তু রাজ্যের আক্ষেপ। প্রথমবারের মতো ৫ উইকেট শিকারের মাইলফলকের খুব কাছেই গিয়েছিলেন তাসকিন। কিন্তু আফসোস হয়নি। প্রতিপক্ষ করেন ইনিংস ডিক্লেয়ার।

টেস্টে বাংলাদেশের কোন পেসার ৫ উইকেট নিয়েছেন তাও ৮ বছর আগে। সালটা ২০১৩। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সবশেষ ৫ উইকেট শিকার করেছিলেন সাতক্ষীরার পেসার রবিউলের ইসলাম। রবিউলের সেই কৃত্তির পর মুস্তাফিজ আবু জায়েদ রাহী মোট ৬ বার পেয়েছিলেন ৪ উইকেট। কিন্তু ক্যান্ডিতে দ্বিতীয় টেস্টের তৃতীয় দিনে তাসকিনের সামনে এসেছিল ৫ উইকেট শিকারের দারুণ সুযোগ। কিন্তু লঙ্কান কাপ্তান দিমুথ করুণারত্নে তা আর হতে দেননি। ফলে তাসকিনের দীর্ঘশ্বাসের টানা ৪৪ টেস্টে বাংলাদেশের কোন পেসার শিকার করতে পারলেন না ৫ উইকেট।

আক্ষেপের গল্প আছে ব্যাটিংয়েও। সেটা প্রথম ইনিংসে দেশসেরা ওপেনার তামিমকে ঘিরে। নিছক বিনোদন হলেও এ যেন জানা সত্য। বোলিংয়ে টাইগাররা মানেই যেন উইকেটের হয়ে যাবে ফ্ল্যাট, আর ব্যাটিংয়ে গেলেই ধরন যাবে পাল্টে। ক্যান্ডি টেস্টেও মজার এ ফর্মুলা থেকে বের হতে পারল কই টিম টাইগার্স?

১৩ ইনিংস ধরে শতক না পাওয়া তামিম ছিলেন শুরু থেকেই আগ্রাসী। ফিফটি করলেন ৫৭ বলে। তবে শতকের মাত্র ৮ রান দূরে থেকে শিকার হন আবারও নার্ভাস নাইটিজের।

এটাই প্রথম নয়। টেস্টে এ নিয়ে তৃতীয়বার ৯০ এর ঘরে কাটা পরেছেন এ ড্যাশিং ওপেনার। গেল ১৩ ইনংসে ৬টা হাফ সেঞ্চুরির ৫টাতেই ৭০ উর্ধ্ব রান তামিমের। লঙ্কানদের বিপক্ষে ৬ ফিফটির কোনটাকেই পারেননি শতকে রূপ দিতে। নাসিরের পর বাংলাদেশি হিসেবে টানা দুই টেস্টে ফিরেছেন নার্ভাস নাইটির শিকার হয়ে।

ক্রিকেটের বইয়ে হয়তো এসব পরিসংখ্যানের অংশ। তবে টাইগারদের জন্য হাহাকার। হাহাকার বাংলার ক্রিকেটের জন্যও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *