করোনা সংকটে ১৬ বছর আগেকার ‘পণ’ ভাঙল ভারত

করোনা সংকটে ১৬ বছর আগেকার ‘পণ’ ভাঙল ভারত

আন্তর্জাতিক স্পেশাল

মে ১, ২০২১ ৮:৩৫ পূর্বাহ্ণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে চলছে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ। এই মহামারির ভায়াল থাবায় ভারতের রাজধানী দিল্লি এখন কার্যত মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। সেখানে ২৪ ঘণ্টায় জ্বলছে গণচিতা। দেশটির হাসপাতালগুলোতে দেখা দিয়েছে তীব্র মেডিকেল অক্সিজেন সংকট। ফ্লু প্রতিরোধী একাধিক প্রয়োজনীয় ওষুধেরও আকাল দেখা দিয়েছে বাজারে। ব্যাপক হারে টিকাকরণের জন্য যে পরিমাণ প্রতিষেধক প্রয়োজন, তা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের জোগান নেই।

যদিও করোনাভাইরাস মহামারির সূচনা পর্বে গোটা বিশ্বকে চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ সরবরাহ করে ‘আত্মনির্ভর’ হওয়ার বার্তা দিয়েছিল ভারত। কিন্তু করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের ধাক্কায় এই মুহূর্তে ভয়ঙ্কর সংকট নেমে এসেছে দেশটিতে।

শুক্রবার (৩০ এপ্রিল) ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৬ বছর আগে দরিদ্র দেশের তকমা কাটিয়ে উঠতে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ক্ষেত্রে বিদেশ থেকে ত্রাণ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ভারত। কিন্তু মহামারির প্রকোপে সেই ‘পণ’ থেকে সরে আসতে হচ্ছে দেশটিকে।

ভারতীয় গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া এক প্রতিবেদনে জানায়, এমন ভয়ংকর অবস্থার মধ্যে করোনার চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ রেমডিসিভিরের জন্য বাংলাদেশ, উজবেকিস্তান, মিসর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দারস্থ হয়েছে ভারত। ভারতীয় গণমাধ্যম দ্যা কুইন্ট জানিয়েছে, এরই মধ্যে ভারতের করোনায় বিপর্যস্ত দুই প্রদেশ মহারাষ্ট্র এবং ঝাড়খণ্ড বাংলাদেশ থেকে রেমডিসিভির রফতানিতে অনুমতি চেয়েছে। এদিকে ওষুধটির প্রস্তুতকারক মার্কিন সংস্থা গিলিয়াড সায়েন্সেস ভারতকে সাড়ে চার লাখ শিশি রেমডেসিভির সরবরাহ করতে রাজি হয়েছে।

ভারতে ভয়াবহ করোনা পরিস্থিতিতে দেশটির সাহায্যে যেসব দেশ এগিয়ে এসেছে, তার মধ্যে রয়েছে- বাংলাদেশ, আমেরিকা, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, রাশিয়া, সৌদি আরব, হংকং, তাইল্যান্ড, ফিনল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, বেলজিয়াম, রোমানিয়া, লাক্সেমবার্গ, পর্তুগাল, সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে, ইতালি, সুইডেন, অস্ট্রেলিয়া, ভুটান, সিঙ্গাপুর এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে বিপর্যস্ত ভারতে চিকিৎসায় ব্যবহৃত অ্যান্টি-ভাইরাল ওষুধ রেমডিসিভিরের চাহিদা দিনকে দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু স্থানীয় কোম্পানিগুলো সেই চাহিদা মেটাতে পারছে না। ফলে কালোবাজারে কয়েকগুণ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে এই ওষুধ।

এদিকে চলমান এই সংকটের কারণে চলতি মাসের শুরুতে ভারত রেমডিসিভির এবং এর কাঁচামাল আমদানির ওপর আরোপিত কর মওকুফ করে। ভারত বর্তমানে বিভিন্ন দেশের কাছ থেকে অক্সিজেন উৎপাদন প্ল্যান্ট, কনসেনট্রেটর ও রেমডিসিভিরের মতো জরুরি ওষুধ সংগ্রহের চেষ্টা করে যাচ্ছে। বিভিন্ন দেশে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী ক্রয় বা সংগ্রহের তালিকা প্রেরণ করা হয়েছে।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে ভারতে জরুরি ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ। প্রথম দফায় ১০ হাজার ইনজেক্টেবল অ্যান্টি-ভাইরাল, ওরাল অ্যান্টি-ভাইরাল, ৩০ হাজার পিপিই কিটস এবং কয়েক হাজার জিংক, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন-সি পাঠানো হবে। বৃহস্পতিবার (২৯ এপ্রিল) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ভারতের জনগণের দুর্ভোগ যাতে লাঘব হয়, সেজন্য বাংলাদেশের জনগণ প্রার্থনা করছে। প্রয়োজনে ভারতকে আরও সহায়তা দিতে বাংলাদেশ আগ্রহী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *