করোনায় স্কুল শিক্ষক আজ কচু ব্যবসায়ী!

করোনায় স্কুল শিক্ষক আজ কচু ব্যবসায়ী!

দেশজুড়ে

মে ১২, ২০২১ ৮:৫৭ পূর্বাহ্ণ

নকলা (শেরপুর) প্রতিনিধি : একসময় যে স্কুল শিক্ষকের অধীন ১১ জন শিক্ষক পাঠদান করাতেন প্রতি মাসে সেই স্কুলের নিয়োজিত শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানের ভাড়া বাবদ হাজার হাজার টাকা গুনতেন আজ মহামারী করোনায় সব বন্ধ থাকায় পথে বসার উপক্রম। করোনায় কর্মহীন হয়ে স্কুল শিক্ষক আজ কচু বিক্রেতা।

শেরপুরের নকলা উপজেলায় করোনায় স্কুল,কলেজ ও কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার কারনে নকলা পৌরসভার গেইটে বেবি কেয়ার স্কুল ছিল এই শিক্ষকের। প্লে শ্রেনী হতে ৫ম শ্রেনী পর্যন্ত পাঠদান হতো । গত বছর থেকে অদ্যাবধি পর্যন্ত কিন্ডারগার্টেন স্কুল বন্ধ থাকায় বর্তমানে করুণ পরিণতি দিনযাপন করতে হচ্ছে জলিল মাস্টারের মত এই উপজেলায় আরো শতাধিক কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষক দের।

দীর্ঘদিন যাবত স্কুল বন্ধ থাকায় বর্তমানে তিনি অন্যের ২০ শতাংশ জমিতে কচু চাষ শুরু করে তা থেকে সামান্য আয় দিয়ে চলছে কোন মতে মোট ৫ জনের সংসার। কচু ও লতি বিক্রি করে এখন সপ্তাহে আয় মাত্র ৬০০ টাকা।

বাসা ভাড়া ও বিদুৎ বিল বকেয়া পড়ে আছে প্রায় ১ বছর ধরে। এমন চিত্র দেশের অধিকাংশ বেসরকারি বিদ্যালয়ের।

করোনায় ইতিমধ্যে জলিল মাষ্টার সংসার চালাতে গিয়ে এরই মধ্যে ২ লক্ষ টাকা ঋনের বোঝা বয়ে বেড়াচ্ছেন। স্কুলের আসবাবপত্র এরই মধ্যে বেশির ভাগই নষ্ট হয়ে গেছে। অনেকেই শিক্ষকতা পেশা পরিবর্তন করে বাধ্য হয়ে অন্য পেশায় নিয়োজিত হয়েছে।

গত বছর সরকারের পক্ষ থেকে করোনায় অনুদান পেয়েছিলেন মাত্র ৫০০ টাকা। গতকাল বেসরকারি স্কুল কলেজের প্রায় ১ লক্ষ শিক্ষকের ৫ হাজার ও কর্মচারীদের আড়াই হাজার টাকা অনুদান প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে। তবে এত কষ্টের মাঝেও সুখবর নেই কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষকদের।

প্রায় দেড় বছর ধরে সরকার সারা দেশের সব স্কুল কলেজ বন্ধ ঘোষণা করেছে মহামারী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে। তবে ঐ বেসরকারী স্কুল কলেজের শিক্ষক ও কর্মচারীদের পেটের ক্ষুধা লাঘবের কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

নকলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদুর রহমান বলেন, করোনায় কর্মহীন বেসরকারী স্কুল কলেজ ও কিন্ডারগার্ডেন শিক্ষকদের অবস্থা খুবই করুন অবস্থা সরকারের পক্ষ থেকে করোনায় অনুদান পেয়েছিলেন গত বছর হাতে গোনা কয়েকজন। এ বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *