এশিয়ার চোখ ধাঁধানো ছয় রেলপথ

এশিয়ার চোখ ধাঁধানো ছয় রেলপথ

আন্তর্জাতিক

নভেম্বর ২৬, ২০২১ ১১:১৩ পূর্বাহ্ণ

প্যালেস অন হুইলস, রাজস্থান, ভারত

‘প্যালেস অন হুইলস’ কথাটার অর্থ চাকার ওপর রাজপ্রাসাদ। বলা হয়ে থাকে, ভারতের রাজস্থানের এ ট্রেনে ভ্রমণের অভিজ্ঞতার সঙ্গে অন্য কিছুর তুলনা চলে না। পর্যটক আকর্ষণ করতে এটি চালু হয়েছিল ১৯৮২ সালে। ভারতের স্বাধীনতার আগে রাজস্থানের রাজপরিবারের সদস্যরা এটি ব্যবহার করতেন। এর পুরোনো বগিগুলো এখন আর নেই। ২০০৯ সালে সংস্কার করে আরও আধুনিকায়ন করা হয়েছে।

বেলমন্ড এক্সপ্রেস, ব্যাংকক থেকে সিঙ্গাপুর

এক সময় প্যারিস ও ইস্তাম্বুলের মধ্যে চলাচল করত ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেস। এটি ছিল বিশ্বের দীর্ঘতম রোমান্টিক রেলভ্রমণ পথ। ১৮৮৩ সালে এটি চালু হয়। ১২৬ বছর পর ২০০৯ সালে বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ট্রেনের বগিগুলো কিনে নেয় বেলমন্ড হোটেল গ্রুপ। সেই বগিগুলো নিয়ে চালু হয় বেলমন্ড ইস্টার্ন অ্যান্ড ওরিয়েন্টাল এক্সপ্রেস। যা বর্তমানে চলাচল করে ব্যাংকক থেকে সিঙ্গাপুরে।

শ্রীলংকা মেইন লাইন, ক্যান্ডি থেকে এলা

শ্রীলংকার এক সময়ের রাজ্য ক্যান্ডি ও এলা। এই রাজ্যের মধ্যে চলাচল করে শ্রীলংকা মেইন লাইন। এলা হচ্ছে শ্রীলংকার দক্ষিণের একটি পাহাড়ি এলাকা। শ্রীলংকা ঘুরে দেখতে হলে এই রেলপথটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। শ্রীলংকা মেইন লাইনের প্রথম শ্রেণির বগিগুলো উজ্জ্বল নীল রঙের। ট্রেনে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আছে। সঙ্গে রয়েছে নৈসর্গিক দৃশ্য দেখার জন্য দারুণ কিছু জানালা।

সেভেন স্টারস, কিয়ুসু, জাপান

বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত, বিলাসবহুল ও জাঁকজমকপূর্ণ ট্রেন সেবা রয়েছে জাপানে। দেশটির সবচেয়ে মনোমুগ্ধকর ও বিলাসবহুল ট্রেন সেবা হচ্ছে সেভেন স্টারস। জাপানের বুলেট ট্রেন বিখ্যাত হলেও সেভেন স্টার চলে ধীরগতিতে। এ ট্রেনে চেপে কিয়ুশু দ্বীপের সাতটি এলাকায় পাহাড় ও সমুদ্র দেখার সুযোগ রয়েছে। কিয়ুশু দ্বীপটি জাপানের মূল ভূখণ্ডের ঠিক দক্ষিণে অবস্থিত। একে ‘প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ভাণ্ডার’ বলা হয়।

ফরেস্ট রেলওয়ে, সেন্ট্রাল তাইওয়ান

তাইওয়ানের সবচেয়ে সুন্দর রেলপথগুলোর একটি আলিশান ফরেস্ট রেলওয়ে। শতাব্দী প্রাচীন এই ট্রেনলাইনে প্রথমদিকে গাছ-কাঠ বহন করা হতো। পর্যটনের উন্নয়নের জন্য ১৯৩৩ সালে সেটাই নতুন করে চালু করা হয়। ডিজেলচালিত ট্রেনটি মধ্য তাইওয়ানের চিয়াই শহর থেকে ৪৪ মাইল দূরের আলিশান পাহাড়ে চলাচল করে। এর মধ্যে তাইওয়ানের সবচেয়ে উঁচু স্টেশন চুশান রয়েছে। ট্রেনটির যাত্রাপথ তিন ঘণ্টার।

দ্য ভিয়েটাজ, ভিয়েতনাম

ভিয়েতনামের ‘রিইউনিফিকেশন এক্সপ্রেস’ পর্যটকদের কাছে বেশ পরিচিত নাম। রাজধানী শহর হ্যানয়ের সঙ্গে দক্ষিণের হো চি মিন সিটির মধ্যে সংযোগকারী এ রেলপথের দূরত্ব এক হাজার মাইল। ৩০ ঘণ্টার যাত্রাপথ এটি। পথে রয়েছে হাই ভ্যান পাস, ল্যাং কো-এর সমুদ্রসৈকত আর বিস্তীর্ণ প্রাকৃতিক দৃশ্য। ভ্রমণকারীদের মধ্যে যারা আরামদায়ক ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিতে চান, ভিয়েটাজ ট্রেনে তারও ব্যবস্থা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *