‘ঈদ উদযাপন যেন করোনা সংক্রমণ বাড়ার উপলক্ষ না হয়’

‘ঈদ উদযাপন যেন করোনা সংক্রমণ বাড়ার উপলক্ষ না হয়’

জাতীয় স্লাইড

মে ১৪, ২০২১ ৯:৫৮ পূর্বাহ্ণ

ঈদ উদযাপন যেন করোনা ভাইরাস সংক্রমণ বাড়ার উপলক্ষ না হয়ে উঠে সেদিকে খেয়াল রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আবেগের বশবর্তী হয়ে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে ঈদের ছুটি কাটাতে যাবেন না। অনেকের কোনো বাহ্যিক লক্ষণ না থাকায় আপনি বুঝতে পারবেন না পাশের ব্যক্তিটিই করোনা ভাইরাস বহন করছে। এর ফলে আপনি যেমন করোনা ভাইরাসের ঝুঁকিতে পড়বেন, তেমনি আপনার নিকটাত্মীয় বা প্রতিবেশিকে ঝুঁকির মুখে ফেলবেন।’

বৃহস্পতিবার (১৩ মে) সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ অনুরোধ জানান। এসময় তিনি দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান।

শেখ হাসিনা বলেন, মানুষের মাধ্যমে এ ভাইরাস ছড়ায়। কাজেই জনসমাগম এড়াতে না পারলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব নয়। এ কারণে কষ্ট হবে জেনেও আমরা বাধ্য হয়েছি মানুষের স্বাভাবিক চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করতে। দোকান-পাট, শপিংমলসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাস্থ্যবিধি মেনে চালু রাখতে হচ্ছে। একই কারণে গণপরিবহন চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এমনি এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্যে এবারও আমাদের ঈদুল ফিতর উদযাপন করতে হচ্ছে। আমরা ঈদ উদযাপন করবো, তবে অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে। কোনোভাবেই এ ঈদ উদযাপন যাতে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ বাড়ার উপলক্ষ হয়ে না উঠে, সেদিকে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। মনে রাখবেন, সবার ওপরে মানুষের জীবন। বেঁচে থাকলে আসছে বছর আবার আমরা আনন্দঘন পরিবেশে ঈদ উদযাপন করতে পারবো।

করোনার বিস্তার প্রতিরোধে মসজিদে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদের নামাজ আদায় করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘যে যেখানে আছি, সেখান থেকেই ঈদের আনন্দ উপভোগ করি।’ এ ছাড়া বিত্তবানদের তিনি দরিদ্রদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত এক বছরে করোনা স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং অর্থনীতির ওপর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। সংক্রমণ গত বছরের শেষ দিক থেকে কমতে শুরু করে এ বছরের মার্চে আবার বাড়তে শুরু করে। সংক্রমণ এড়াতে লকডাউন বা সাধারণ ছুটি বলবৎ করতে হয়েছে। এই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা ছাড়া বিকল্প কোনো উপায় ছিল না। কারণ প্রতিটি দেশেরই স্বাস্থ্য অবকাঠামোর একটি নির্দিষ্ট সক্ষমতা রয়েছে। হঠাৎ করে দ্রুতগতিতে রোগী বাড়তে থাকলে তখন সেবা দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। তবে সরকার জীবন ও জীবিকার মধ্যে একটা সামঞ্জস্য বজায় রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছে বলে তিনি জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published.