ঈদে কোষ্ঠকাঠিন্যে সমস্যা সমাধানে কিছু ঘরোয়া উপায়

ঈদে কোষ্ঠকাঠিন্যে সমস্যা সমাধানে কিছু ঘরোয়া উপায়

স্পেশাল স্বাস্থ্য

জুলাই ১৯, ২০২১ ১১:২৩ পূর্বাহ্ণ

ঈদ উপলেক্ষ মাংস, তেল, চর্বি বেশি খাওয়া হয়। এই অতিরিক্ত তেল, চর্বিযুক্ত মাংস খাওয়ার ফলে শরীরে পানির অভাব আরো বেশি দেখা দেয়। এতে অনেকেই কোষ্ঠকাঠিন্যর সমস্যায় ভুগেন। যা পুরো ঈদের আনন্দটাই মাটি করে দেয়। অন্যদিকে বাড়ায় যন্ত্রণা।

তাইতো ঈদে কোষ্ঠকাঠিন্য এড়াতে আপনাকে থাকতে হবে একটু বেশি সতর্ক। ঈদের দিন দুপুর ও রাত্রে অবশ্যই খাবারের তালিকায় সবজির একটি পদ রাখবেন। আর সব খাবারের ফাঁকে ফাঁকে পানি বা অন্যান্য পানীয় পান করতে ভুলবেন না। ঈদের দিন অনেক বেশি খাবার গ্রহণ করলে গ্যাস্ট্রিক, পেট ফাঁপা বা বদ হজমও হতে পারে। তাই, খাবার সময় অবশ্যই পরিমিতি বোধ বজায় রাখতে হবে। একবারে বেশি পরিমাণ খাবার না খেয়ে ছোট ছোট মিলে ভাগ করে খান।

ঈদে কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগলে কিছু ঘরোয়া উপায়  অনুসরণ করুন। এতে দ্রুত এই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি মিলবে-

>> কোষ্ঠকাঠিন্য দূর না হলে পানিতে ইসবগুলের ভুসি মিশিয়ে খেতে পারেন। প্রাকৃতিক উপাদান বলে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা কম।

>> আলুবোখারা মৃদু ল্যাক্সাটিভ হিসেবে কাজ করে। এটি বৃহদান্ত্রের মধ্য দিয়ে বর্জ্য নামাতে মাংসপেশীকে উদ্দীপ্ত করে। আলুবোখারার জুস কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে বেশ কার্যকর।

>> পাকা কলা কোষ্ঠকাঠিন্য সহজে দূর করতে পারে। কারণ কলায় প্রচুর আঁশ থাকে যা এই সমস্যা সহজে দূর করতে পারে। কলার আঁশ শরীরের বৃহৎ অন্ত্র থেকে পানি শোষণ করে। এতে মল নরম হয়।

>> এই ঘরোয়া চিকিৎসাটি প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম চলে আসছে। খালি পেটে এক থেকে দুই চা-চামচ ক্যাস্টর অয়েল গ্রহণ করুন এবং আট ঘণ্টার মধ্যে ফল পাবেন।

>> লেবুর রসের সাইট্রিক অ্যাসিড পরিপাকতন্ত্রে উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে ও শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর করতে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য উপশম করে। লেবু চিপে রস বের করে এক গ্লাস পানির সঙ্গে পান করুন অথবা লেবু চা পান করতে পারেন।

>> পুদিনায় মেনথল থাকে, যার রয়েছে অ্যান্টিস্প্যাজমোডিক ইফেক্ট যা পরিপাক নালীর মাংসপেশীকে শিথিল করে। আদা একটি উষ্ণ হার্ব যা শরীরের ভেতরে অধিক তাপ উৎপাদন করে, হার্বালিস্টদের মতে এটি ধীর হজমকে দ্রুত করতে পারে। পুদিনা বা আদার চা খাবার হজমে সহায়তা করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।

>> কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগলে কফি পান করে দেখতে পারেন। এতে ভালো কাজ হয় বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। এর অন্যতম কারণ হলো গরম পানীয় বর্জ্যের চলাচলে গতি আনে। সেই হিসেবে অন্যান্য গরম পানীয়ও কোষ্ঠকাঠিন্যে সহায়ক হতে পারে। কিন্তু কোষ্ঠকাঠিন্য দূরীকরণে কফির ভূমিকা অন্যান্য গরম পানীয়ের চেয়ে একটু বেশি, কারণ এটি অন্ত্রের মাংসপেশীকে সংকুচিত হতে উদ্দীপ্ত করে।

বাজারে নানা ধরনের সিরাপ, জোলাপ ইত্যাদি পাওয়া যায়। কখনোই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার কোনো ওষুধ সেবন করবেন না। কারণ ওষুধের মাধ্যমে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে গিয়ে উল্টো ডায়রিয়া হয়ে যেতে পারে এবং পানি ও লবণের ঘাটতি হয়ে সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা প্রকট হলে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *