আল্লাহ শেখের বেটিরে বাঁচাইয়া রাখুক, বললেন স্বামী হারা বৃদ্ধা রুমেছা

আল্লাহ শেখের বেটিরে বাঁচাইয়া রাখুক, বললেন স্বামী হারা বৃদ্ধা রুমেছা

দেশজুড়ে

এপ্রিল ২১, ২০২১ ৯:১৬ পূর্বাহ্ণ

দেলোয়ার হোসেন,নকলা (শেরপুর) প্রতিনিধি:

বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমে রুমেছার দৈন্যদসার খবর প্রকাশের পর শেরপুরের নকলা উপজেলার বানেশ্বর্দী ইউনিয়নের বানেশ্বর্দী গ্রামের স্বামী হারা ৮০ বছর বয়স্ক এক বৃদ্ধা রুমেছাকে দেখতে ছুটে যান উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদুর রহমান।

২০ এপ্রিল মঙ্গলবার দুপুরের দিকে রুমেছার থাকার জরাজীর্ণ ঘরটি পরিদর্শনে গিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদুর রহমান বৃদ্ধা রুমেছাকে সরকারি ঘর পাইয়ে দিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দেন। সরকারি ঘরের আশ্বাস দেওয়ায় মুখে তৃপ্তির হাসি ফুটে ওঠে বৃদ্ধা রুমেছার।।

বৃদ্ধা রুমেছা কাপা কাপা কণ্ঠে বলেন, “আল্লাহ শেখের বেটিরে বাঁচাইয়া রাখুক। শেখের বেটি হাসিনার দেওয়া ঘর পাইয়া আমি নিজের ঘরে ঘুমামু, নিজের ঘরে মরবার পামু। এইডা আমার জীবনের শেষ ইচ্ছা আছিল।” তার শেষ ইচ্ছা পূরণে যে বা যারা ভুমিকা রাখছেন এবং রাখবেন তাদের জন্য তিনি হাত তুলে দোয়া করেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদুর রহমান কর্তৃক রুমেছার জরাজীর্ণ ঝুপড়ি ঘর পরিদর্শনের সময় উপজেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ও বানশ্বরদী ইউপির চেয়ারম্যান মাজহারুল আনোয়ার মহব্বত, নকলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. মোশারফ হোসাইন, সহ-সভাপতি খন্দকার জসিম উদ্দিন মিন্টু, সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন সরকার বাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক নূর হোসেন, অর্থ বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল আমিন, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক আসাদুজ্জামান সৌরভ, সদস্য মোফাজ্জল হোসেন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম আহম্মেদসহ এলাকার অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

বানেশ্বর্দী ইউপির চেয়ারম্যান মাজহারুল আনোয়ার মহব্বত বলেন, এ বৃদ্ধার নিজের কোন জমি নেই, তাই তাকে গুচ্ছগ্রামে যেতে বললে সে সেবা যত্নের চিন্তা করে সেখানে একা যেতে রাজি হননি। তাই তাকে আজ পর্যন্ত ঘর বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব হয়নি।

ইউএনও জাহিদুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, দ্রুত সময়ের মধ্যে যেন এ বৃদ্ধা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে একটি ঘর পেতে পারেন, এরজন্য অসহায় বৃদ্ধা রুমেছার থাকার একটি ঘরের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বিশেষ আবেদন করা হবে। এমনকি এ বৃদ্ধা প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে একটি ঘর পাবেন বলে তিনি আশ্বাস দেন।

জানা গেছে, জেলার নকলা উপজেলার বানেশ্বর্দী ইউনিয়নের ৮০ বছর বয়স্ক বৃদ্ধা রুমেছা ৩৫ বছর আগে স্বামী হারিয়ে বিধবা হয়েছেন; একমাত্র কন্যার বিয়ে দিয়েছেন ২০ বছর আগে। এর পর থেকে অনাহারে-অর্ধাহারে তার দিন কাটছে। দীর্ঘদিন ধরে পলিথিন ও সিমেন্টের বস্তা দিয়ে ঘেরা একটি ঝুপড়ি ঘরে রুমেছা রাত যাপন করছেন। সামান্য বৃষ্টি এলেই ঘরে পানি পড়ে, হালকা বাতাস এলে অন্যের ঘরে গিয়ে আশ্রয় নিতে হয়। বর্তমানে বার্ধক্যের কারণে ঠিকমতো চলতে পারেন না। চোখের দৃষ্টিশক্তি ও শ্রবণ শক্তি কমে গেছে প্রায় একযুগ আগে। আশেপাশের লোকজনের দেয়া খাবারেই চলে তার জীবন। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে নিরাপদে ও একটু শান্তিতে ঘুমাতে চান এই বৃদ্ধা রুমেছা।

এদিকে গতকাল প্রকাশিত খবরটি সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচরে আসায় তাৎক্ষণিক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ তহবিল থেকে একটি ঘর বরাদ্দের জন্য আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন বগতকাল কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবরটি সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচরে আসায় তাৎক্ষণিক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ তহবিল থেকে একটি ঘর বরাদ্দের জন্য আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদুর রহমান । সেই সঙ্গে অসহায় বৃদ্ধা রুমেছা বেগমের শারীরিক ও মানসিক খোঁজ নেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। সেই সঙ্গে তার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে অর্থ প্রদান করেন এবং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাজহারুল আনোয়ার মহব্বত তাৎক্ষণিক কিছু টিন ও সিমেন্টের খুঁটি দিয়ে একটি অস্থায়ী ঘর নির্মাণ করার প্রতিশ্রুতি দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *